তেল সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রধান প্লান্ট বন্ধ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ক্রুড আমদানি বন্ধ; সীমিত উৎপাদনে জ্বালানি সরবরাহে চাপ, স্বাভাবিক হতে অপেক্ষা মে মাসের চালানের।

টুইট প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) কাঁচামাল সংকট চরমে পৌঁছেছে।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড) সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান দুটি উৎপাদন ইউনিট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখের পর থেকে চট্টগ্রামে আর কোনো ক্রুড অয়েল পৌঁছেনি।

ফলে মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকেই ইআরএলের সব প্লান্ট সীমিত সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছিল।

সর্বশেষ মজুত ‘ডেড স্টক’-এ নেমে আসায় মঙ্গলবার দুপুর থেকে বড় দুটি ইউনিট বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে একটি ছোট প্লান্ট চালু রাখা হয়েছে, যেখান থেকে দৈনিক প্রায় ১০০ টন পেট্রোল এবং ১২০ টন ডিজেল উৎপাদন হচ্ছে।

তবে এই উৎপাদন দেশের চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত সীমিত, ফলে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান মজুত দিয়ে আরও প্রায় ১৫ দিন এই আংশিক উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।

এর মধ্যে নতুন ক্রুড অয়েলের চালান না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

জানা গেছে, আগামী ৫ মে একটি নতুন ক্রুড তেলের চালান চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

ওই চালান হাতে পাওয়ার পর পুনরায় পূর্ণ সক্ষমতায় সব প্লান্ট চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও আমদানি নির্ভরতার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প উৎস ও কৌশলগত মজুত বাড়ানোর ওপর জোর না দিলে এমন সংকট ভবিষ্যতেও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।