দাওরায়ে হাদিসে সাফল্যের জোয়ার

পাসের হার প্রায় ৯০ শতাংশ, শীর্ষে ঢাকার শিক্ষার্থী
কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)।
টুইট প্রতিবেদক: পরীক্ষার ফলাফলে এবারও উচ্চ সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, সারাদেশে গড় পাসের হার ৮৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য।
মঙ্গলবার রাজধানীর আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল ঘোষণা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসান।
প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, চলতি বছর দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষায় মোট ২৩ হাজার ৮৮১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২১ হাজার ৪৯১ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ২ হাজার ৩৯০ জন।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছাত্রদের পাসের হার ৯২ দশমিক ৯১ শতাংশ হলেও ছাত্রীদের পাসের হার তুলনামূলক কম, যা ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।
ফলাফলের গুণগত দিক বিবেচনায়ও রয়েছে ইতিবাচক চিত্র। সর্বোচ্চ ‘মুমতাজ’ (স্টার) বিভাগে স্থান পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭৮ জন ছাত্র এবং ৯৭ জন ছাত্রী, যা মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।
মেধা তালিকায় এবার শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন ঢাকার সূত্রাপুরের মাদ্রাসা বায়তুল উলুম ঢালকানগরের শিক্ষার্থী খালেদ হাছান, যিনি পেয়েছেন ৯৩২ নম্বর। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন চট্টগ্রামের আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার মো. আব্বাস (৯২৮ নম্বর)।
যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছেন মোহাম্মদপুরের মুতাসিম বিল্লাহ এবং ঢালকানগরের মুহা. আবু রায়হান, দুজনেই পেয়েছেন ৯২৫ নম্বর।
অন্যদিকে, ছাত্রীদের মেধা তালিকায় প্রথম হয়েছেন রামপুরা মহিলা মাদ্রাসার আসমা (৮৯৪ নম্বর)। দ্বিতীয় স্থানে আছেন লালমনিরহাটের মোছা. ফাতিমাতুয যাহরা (৮৮৩ নম্বর) এবং তৃতীয় স্থানে উত্তরার তাহসিনা সিদ্দীকা মারিয়া (৮৮১ নম্বর)।
মেধা তালিকার কাঠামো অনুযায়ী, প্রতি ৫০০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ জন করে নির্বাচন করে মোট ৩১ জন ছাত্র ও ১৭ জন ছাত্রীকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রতিযোগিতার তীব্রতা ও মানোন্নয়নের প্রতিফলন।
সার্বিকভাবে, এবারের ফলাফল কওমি শিক্ষাব্যবস্থার ধারাবাহিক অগ্রগতি এবং শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নের একটি শক্ত বার্তা দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তবে ছাত্র ছাত্রীর ফলাফলের ব্যবধান কমিয়ে আনা এবং মানসম্মত শিক্ষার বিস্তার নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।






