খাল খননে ‘শহীদ জিয়া’র স্মৃতি, দুর্নীতিবিরোধী প্রত্যাশা নতুন করে

তারেক রহমানের উদ্যোগে দেশব্যাপী কর্মসূচি, আলোচনায় জিয়ার আদর্শ

টুইট ডেস্ক: ১৬ মার্চ দিনাজপুরে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নতুন এক উন্নয়ন উদ্যোগের সূচনা করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং একটি গাছ রোপণ করেন।

দেশজুড়ে খাল-নদী পুনঃখননের বড় পরিকল্পনা

এই উদ্বোধনের মাধ্যমে ‘নদীনালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার জলপথ পুনঃখনন করা হবে।

প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৩টি জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাধার সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জিয়াউর রহমানের কর্মসূচির ধারাবাহিকতা

এই উদ্যোগকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর সময়কার খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার শাসনামলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি উন্নয়নে এ ধরনের প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা এবং কৃষি-শিল্পে সংস্কারের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন।

সততা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে আলোচনা

জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি ছিল সততা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান। তার শাসনামলকে অনেকেই স্বচ্ছতা ও সুশাসনের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশে দুর্নীতি, ঘুষ ও পদায়ন বাণিজ্য নিয়ে নানা আলোচনা থাকায় তার আদর্শ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—দুর্নীতিমুক্ত একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রত্যাশা

বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে থাকা তারেক রহমানের মধ্যে অনেকেই জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতিফলন দেখতে চান। তার সাদামাটা জীবনযাপন ও উন্নয়নমুখী উদ্যোগগুলো সেই প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

বিশেষ করে খাল খননের মতো কর্মসূচিকে অনেকে প্রতীকীভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হিসেবেও দেখছেন।

দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার চ্যালেঞ্জ

বিশ্লেষকদের মতে, দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে উন্নয়নের বড় অংশ অর্জন সম্ভব। নিয়োগ, পদায়ন ও উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে জনগণের ভোগান্তিও কমবে।

সেই লক্ষ্যেই শহীদ জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করে কঠোর দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান গ্রহণের আহ্বান উঠে আসছে।

খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে কতটা সফল হয়, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন ও সুশাসনের ওপর—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।