ঝড়ে উড়ে গেল ঘরের ছাদ, সহায়তা মেলেনি

তারাগঞ্জে খোলা আকাশের নিচে অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি

টুইট ডেস্ক: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের দামোদরপুর এলাকার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের ছাদ উড়ে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এক অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি। ঝড়ের কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তারা কোনো সরকারি সহায়তা পাননি।

গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে মো. আয়ুব আলি (৬৫) ও তার স্ত্রী মোছা. আবেদা বেগমের একমাত্র বসতঘরের ছাদ উড়ে যায়। ঝড়ের পর সারা রাত বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে কাটাতে হয় তাদের।

জানা গেছে, আয়ুব আলির কোনো জমিজমা নেই। মাত্র দুই শতক জমির ওপর নির্মিত ছোট একটি ঘরই ছিল তাদের একমাত্র আশ্রয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বড় ছেলে আদম আলি। তিন বছর আগে ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে সেফটি ট্যাংকে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হলে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর বর্তমানে সংসারে উপার্জনের কোনো পথ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম বলেন, “আয়ুব আলি ঠিকমতো দেখতে পান না। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বয়স্ক। আমরা প্রতিবেশীরা যেভাবে পারি সাহায্য করি। কেউ দিলে তারা খেতে পারেন, না হলে না খেয়েই থাকতে হয়।”

তিনি আরও জানান, জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স ভুলভাবে কম উল্লেখ থাকায় আয়ুব আলি এখনো বয়স্ক ভাতার আওতায় আসতে পারেননি। বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি।

ভুক্তভোগী দম্পতি জানান, ঘরের ছাদ উড়ে যাওয়ার পর থেকে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এখনো কোনো সরকারি সহায়তা বা ত্রাণ পাননি তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ঘর মেরামত এবং খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হোক, যাতে এই অসহায় দম্পতি কিছুটা স্বস্তি ফিরে পান।

প্রান্তিক মানুষের নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যগত ত্রুটির কারণে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সামনে এসেছে। এসব সমস্যার সমাধানে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।