আইসিসি চেয়ারম্যানকে ঘিরে নিরপেক্ষতার বিতর্ক

ভারতের বিশ্বকাপ জয় উদ্যাপনে সক্রিয় উপস্থিতি; আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা।
টুইট ডেস্ক: ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জয় শাহকে ঘিরে নতুন করে নিরপেক্ষতার বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইন্ডিয়া ন্যাশনল ক্রিকেট টিম টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর তাদের শিরোপা উদ্যাপনে তার সক্রিয় উপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
গত সপ্তাহে নিউজিল্যান্ড ন্যাশনল ক্রিকেট টিমেকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে ভারত। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে। শিরোপা জয়ের পর ভারতের উদ্যাপনের নানা দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বিতর্কের সূত্রপাত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট টিম ইন্ডিয়া প্রকাশিত ৩৭ সেকেন্ডের এক উদ্যাপন ভিডিওতে জয় শাহকে একাধিকবার দেখা যায়।
ভিডিওটিতে তাকে প্রায় ডজনখানেকবার দৃশ্যমান হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
ক্রিকেটবিষয়ক পডকাস্ট ‘দ্য ফাইনাল ওয়ার্ড’-এ সাংবাদিক এ্যাডাম কলিনস বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার প্রধান হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট দলের উদ্যাপনে এতটা সক্রিয় উপস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। তার মতে, আইসিসি প্রধানের দায়িত্ব ও সমর্থকের আবেগ এই দুইয়ের মধ্যে একটি স্পষ্ট দূরত্ব থাকা প্রয়োজন।
একই আলোচনায় ক্রীড়া লেখক জিওফ লিমন ও একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার প্রধানের আচরণে নিরপেক্ষতার প্রতিফলন থাকা জরুরি।
বিতর্ক আরও তীব্র হয় শিরোপা জয়ের পর একটি মন্দির সফরকে ঘিরে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের অধিনায়ক সুরয় কুমার ইয়াদাব এবং কোচ গৌতম গম্ভীর নিয়ে জয় শাহকে আহমেদাবাদের কাছের একটি হনুমান মন্দিরে দেখা যায়। সেখানে অধিনায়কের হাতে আইসিসির ট্রফিও ছিল।
সমালোচকদের মতে, একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ট্রফি নিয়ে এমন ধর্মীয় সফর বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। কারণ, ভারতীয় দলে বিভিন্ন ধর্মের খেলোয়াড় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
এই প্রসঙ্গে আবার সামনে এসেছে জয় শাহর রাজনৈতিক পটভূমিও। তিনি ২০১৯ সালে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব হন এবং ২০২৪ সালে আইসিসির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার বাবা অমিত শাহ ভারতের প্রভাবশালী রাজনীতিক ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সমালোচকদের অভিযোগ, আইসিসির শীর্ষ পদে থাকার পরও অনেক ক্ষেত্রে জয় শাহের আচরণে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তার ছাপ দেখা যায়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিচালনাকারী সংস্থার প্রধান হিসেবে রাজনৈতিক ও জাতীয় পক্ষপাত থেকে দূরে থাকা নৈতিক দায়িত্ব বলেই মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই নিরপেক্ষতা নিয়ে নতু™ন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।






