একসঙ্গে পাঁচ হাজার মুসলিম ভাইদের ইফতার

রমজানে ভ্রাতৃত্বের অনন্য মিলনমেলা বায়তুল মোকাররমে।

টুইট ডেস্ক : বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন হাজারো রোজাদারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গণইফতার।

রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মসজিদে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ একসঙ্গে ইফতার করে তৈরি করছেন ভ্রাতৃত্ব, সমতা ও ধর্মীয় সংহতির এক অনন্য পরিবেশ।

ইফতারের সময় যত ঘনিয়ে আসে, ততই বাড়তে থাকে রোজাদারের ভিড়। ধনী-গরিব, পেশাজীবী বা শিক্ষার্থী সবাই এক কাতারে বসে ইফতার করেন।

অনেকের মতে, এই দৃশ্য গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মসজিদভিত্তিক সম্মিলিত ইফতারের সংস্কৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনের মধ্যেও এই আয়োজন যেন মুসলিম সমাজের ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।এই গণইফতারের আয়োজন করছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটি এবং তাবলিগ জামাত।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার মানুষের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করে। এ ইফতারিতে থাকে দেশীয় ঐতিহ্যের মুড়ি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, জিলাপি ও পানি।

অন্যদিকে মসজিদের মুসল্লি কমিটির উদ্যোগে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের জন্য আলাদা ইফতারের আয়োজন করা হয়। তাবলিগ জামাতের পক্ষ থেকেও কয়েক শত মুসল্লির জন্য আলাদা ইফতারি বিতরণ করা হয়। ফলে সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ এই গণইফতারে অংশ নেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাভেদ আকিব বলেন, গ্রামের মসজিদে সবাই মিলে একসঙ্গে ইফতার করার যে ঐতিহ্য রয়েছে, বায়তুল মোকাররমের এই আয়োজন সেই স্মৃতিকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। ঢাকায় এমন আয়োজন খুব একটা দেখা যায় না বলেই তিনি স্মৃতি হিসেবে এই গণইফতারে অংশ নিতে এসেছেন।

মসজিদের প্রধান খাদেম মো. নাসির উল্লাহ জানান, বহু বছর ধরেই এই গণইফতার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অংশগ্রহণও বেড়েছে। তার ভাষায়, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে ইফতার করেন।

মুসল্লি কমিটির সভাপতি আবদুল গাফ্ফার বলেন, প্রতিটি ইফতার প্যাকেটে খেজুর, ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি, পুরি ও পানির বোতল দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের সহায়তায় এই আয়োজন পরিচালিত হয় এবং ঢাকায় অবস্থিত সৌদি দূতাবাসও এতে অংশীদার হয়েছে।

রমজানের পবিত্র আবহে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে এই গণইফতার শুধু খাদ্য ভাগাভাগির আয়োজন নয়; বরং এটি সামাজিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা এবং ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।