বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা ও নিরাপত্তা সংকটে ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অনিশ্চিত বলে জানাল তেহরান।

টুইট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামাল জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। অর্থাৎ বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্বকাপে খেলছে না ইরান।

সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক হামলা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের অবস্থা অত্যন্ত সংকটময়। তার ভাষায়, কয়েক মাসের ব্যবধানে দুইটি যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছে ইরান এবং এতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার মতো অবস্থা নেই বলেই সরকার মনে করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা দ্রুত তীব্র হয়ে ওঠে। ওই ঘটনার পর পাল্টা হামলা চালায় ইরান, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে। সংঘাতের এই পরিস্থিতি দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও বড় ধরনের চাপে ফেলেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, বিশ্বকাপে অংশ নিতে ইরান দলকে স্বাগত জানানো হবে এবং তাদের অংশগ্রহণে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।

একইভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও জানিয়েছিলেন, খেলাধুলা আন্তর্জাতিক ঐক্যের প্রতীক এবং বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধা থাকা উচিত নয়। তবে ইরানের সর্বশেষ অবস্থান সেই সম্ভাবনাকে অনেকটাই অনিশ্চিত করে তুলেছে।

আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়াম–এর বিপক্ষে। এছাড়া সিয়াটলে তাদের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল মিসর।

তবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ালে বিশ্বকাপের গ্রুপ বিন্যাসে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা বিকল্প দল নির্ধারণ করবে কি না, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।