হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত; নাবিকরা নিরাপদ।

বিশ্ব ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য তদারকি সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) মঙ্গলবার এ ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৪৬ কিলোমিটার) উত্তর-পশ্চিমে অবস্থানকালে একটি কনটেইনার জাহাজে অজ্ঞাত উৎস থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে জাহাজটির কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং কিছু প্রতিবেদনে জাহাজে আগুন লাগার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

জাহাজের অধিনায়ক ইউকেএমটিওকে জানিয়েছেন, আঘাতের ফলে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন এবং তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে জাহাজের ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি; বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে অন্তত ১৭টির বেশি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে।

এ ধরনের হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ তুললেও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অনেকটাই কমে গেছে বলে শিপিং সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ইউকেএমটিও সতর্ক করে বলেছে, ওই এলাকা দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে এবং কোনো সন্দেহজনক ঘটনা ঘটলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

বিশ্ব জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামান্য নিরাপত্তা সংকটও বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।