থাইল্যান্ডে কেন ‘অ্যাম সায়ানাইড’ নামে পরিচিত এই নারী

থাইল্যান্ডের আদালতের রায়: প্রকৌশলী নারীকে বিষপ্রয়োগে হত্যার প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি প্রসিকিউশন।
টুইট ডেস্ক: থাইল্যান্ডে বহুল আলোচিত ‘অ্যাম সায়ানাইড’ হত্যাকাণ্ডের তৃতীয় মামলায় অভিযুক্ত নারীকে খালাস দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানী ব্যাংককের ফৌজদারি আদালত রায়ে বলেন, অভিযোগ প্রমাণে প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যাপ্ত নয়।
মামলার আসামি সারারাত রাংসিউউত্তাপর্ন, যিনি ‘অ্যাম সায়ানাইড’ নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ২০২০ সালে নাখন পাথম প্রদেশে এক নারী প্রকৌশলীকে সায়ানাইড মিশিয়ে পানীয় খাইয়ে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সাক্ষীদের বয়ান অনুযায়ী অভিযুক্তকে ভুক্তভোগীর সঙ্গে নির্মাণস্থলে দেখা গেছে। তবে প্রসিকিউশন এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দেখাতে পারেনি, যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে অভিযুক্ত ওই সময় সায়ানাইড নিজের কাছে রেখেছিলেন বা তা ব্যবহার করেছিলেন।
পোস্টমর্টেম প্রতিবেদনের বিষয়েও আদালত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন। মৃতদেহ পরীক্ষা করা চিকিৎসক আদালতে জানান, ভুক্তভোগীর শরীরে সায়ানাইডের উপস্থিতি নিশ্চিত করার মতো কোনো রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে অনিশ্চয়তা থেকে যায়।
এ ছাড়া প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, সম্পদের লোভে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। কিন্তু আদালত বলেন, এ বিষয়ে পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে সন্দেহের সুবিধা আসামির পক্ষেই গেছে।
রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, আদালতের মতে ২০২০ সালে অভিযুক্তের কাছে সায়ানাইড থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগ প্রমাণে ঘাটতি রয়েছে। তিনি বলেন, এই রায় অন্যান্য চলমান মামলায় প্রতিরক্ষার কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে।
তবে আদালত খালাসের রায় দিলেও মামলাটি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধের আওতায় থাকায় আপিল প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে হেফাজতেই রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশন চাইলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে।
উল্লেখ্য, এর আগে একই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলায় আদালত ভিন্ন রায় দিয়েছেন। প্রথম মামলায় এক নারীকে সায়ানাইড দিয়ে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দ্বিতীয় মামলায় আরেক ব্যক্তিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার ঘটনায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।







