এপস্টাইন মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ চাইলেন গিউফ্রের পরিবার

এপস্টাইন কেলেঙ্কারি: ন্তর্জাতিক নারী দিবসে বিক্ষোভে যোগ দিয়ে ভাইদের আহ্বান। যৌন পাচার চক্রে জড়িতদের নাম প্রকাশ করুক সরকার
টুইট ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত অর্থপতি ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের অন্যতম অভিযোগকারী ভার্জিনিয়া গিউফ্রের দুই ভাই প্রথমবারের মতো নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত এপস্টাইনের সাবেক র্যাঞ্চ পরিদর্শন করেছেন। একই সঙ্গে তারা সরকারের কাছে এপস্টাইন সংশ্লিষ্ট নথি সম্পূর্ণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। এপস্টাইন কেলেঙ্কারি পূর্ণাঙ্গ নথিতে যৌন পাচার চক্রে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ পাবে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার নিউ মেক্সিকোর স্ট্যানলি এলাকায় এপস্টাইনের জোরো র্যাঞ্চের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন গিউফ্রের ভাই স্কাই রবার্টস (৩৭) ও ড্যানিয়েল উইলসন (৪৭)। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সমাবেশে শত শত বিক্ষোভকারীও যোগ দেন। র্যাঞ্চটি রাজধানী সান্তা ফে শহর থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।
সমাবেশে স্কাই রবার্টস যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান, এপস্টাইনের র্যাঞ্চে আগত অতিথিদের নামসহ সব তথ্য সম্বলিত নথি প্রকাশ করা হোক। তিনি বলেন, “সব নামই নথিতে রয়েছে, কিন্তু সরকার এখনও সেগুলো গোপন রাখছে।”
তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন বড় ভাই ড্যানিয়েল উইলসন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
ভার্জিনিয়া গিউফ্রে গত বছরের এপ্রিল মাসে আত্মহত্যা করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এপস্টাইনের যৌন পাচার চক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং নিজেকে সেই চক্রের শিকার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এপস্টাইন কেলেঙ্কারি নতুন করে আলোচনায় আসে।
এপস্টাইনের সঙ্গে বিভিন্ন সময় রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও বিজ্ঞানীদের সামাজিক যোগাযোগের তথ্য মিলিয়ন পৃষ্ঠার নথিতে উঠে এসেছে। এসব তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও আলোড়ন তোলে।
সম্প্রতি প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার একটি নথিতে এক অজ্ঞাত নারীর অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও যৌন সম্পর্কের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্য এপস্টাইনের দীর্ঘদিনের কার্যকলাপ অনুসন্ধানে একটি আইনসভা-গঠিত “সত্য কমিশন” প্রতিষ্ঠা করেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে গঠিত এই কমিশন জোরো র্যাঞ্চে প্রায় ২৬ বছর ধরে চলা গোপন কর্মকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে।
স্কাই রবার্টসের স্ত্রী অ্যামান্ডা রবার্টস বলেন, নিউ মেক্সিকোর এই উদ্যোগ অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে। তার মতে, নিউ ইয়র্ক ও ফ্লোরিডার মতো রাজ্যেও একই ধরনের অনুসন্ধান শুরু হওয়া প্রয়োজন, কারণ সেখানেও এপস্টাইনের একাধিক বাসভবন ছিল।
রয়টার্স ও ইপসোস পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, অনেক মার্কিন নাগরিক এপস্টাইন কেলেঙ্কারিকে ধনী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের দায়মুক্তির উদাহরণ হিসেবে দেখেন। তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এখনও এপস্টাইনের সম্ভাব্য সহযোগী বা ক্লায়েন্টদের পরিচয় গোপন রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টাইন কেলেঙ্কারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এখনও শেষ হয়নি। শিকারদের পরিবার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো পূর্ণ স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে এখনো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।






