রমজানে নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাজশাহীর দুই স্কুলে চলছেই ক্লাস

নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র রমজান মাসে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাজশাহীর দুটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান চালু রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অভিভাবকরা; পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক চাপে পড়ছে শিক্ষার্থীরাও।

অভিযোগ অনুযায়ী, নগরীর উপশহর এলাকায় অবস্থিত সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং নওদাপাড়া এলাকার হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এ রমজানের শুরু থেকেই নিয়মিত ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, রমজানে অভিভাবকদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী পহেলা রমজান থেকেই বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কথা। রাজশাহীর অধিকাংশ স্কুল নির্দেশনা মেনে চললেও উল্লেখিত দুটি প্রতিষ্ঠান তা উপেক্ষা করে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়ছেন তারা। সাহরির পরপরই শিশুদের স্কুলে পাঠাতে গিয়ে বিশ্রামহীন অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে।

সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুলের এক অভিভাবক আসমাউল হুসনা বলেন, “রাত ৪টায় উঠে রান্না করতে হয়। সাহরি শেষে নামাজ পড়ে গুছাতে গুছাতে সকাল হয়ে যায়। তখন বিশ্রামের সুযোগ নেই। আবার বাচ্চাকে সকালে স্কুলে নিয়ে যেতে হচ্ছে, দুপুরে আনতে হচ্ছে। রোজার মধ্যে এটা খুব কষ্টকর।”

আরেক অভিভাবক মাজেদুর রহমান বলেন, “আমরা সাহরির জন্য উঠলে বাচ্চারাও উঠে যায়। আবার সকালে স্কুলে যেতে হয়, ফলে তাদের ঘুম ঠিকমতো হচ্ছে না। এতে শিশুদের ওপর চাপ পড়ছে।”

অভিভাবকদের আপত্তির মুখে রোববার সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল কর্তৃপক্ষ একটি নোটিশ জারি করে। অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে জানানো হয়, সোমবার থেকে নিয়মিত ক্লাস বন্ধ থাকবে। তবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অতিরিক্ত ক্লাস ও পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিভাবক নাইমা পারভীন বলেন, “এটা এক ধরনের কৌশল। কিছু শিক্ষার্থী গেলে অন্যরাও যেতে বাধ্য হবে, না হলে পিছিয়ে পড়বে। এতে কার্যত স্কুল খোলাই রাখা হচ্ছে।” অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “অভিভাবকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিয়মিত ক্লাস বন্ধ করা হয়েছে। তবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। সবাইকে আসতে হবে না।”

অন্যদিকে, নওদাপাড়ার হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজে রোববার থেকে সব শ্রেণির পাঠদান চালু রয়েছে বলে জানা গেছে। সকাল পৌনে ৯টা থেকে ক্লাস শুরু হওয়ায় দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের সকাল ৮টার আগেই বাড়ি থেকে বের হতে হচ্ছে।

এক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ছোট বাচ্চারা সাহরিতেও উঠে যাচ্ছে, আবার সকালে ঘুম ভাঙিয়ে স্কুলে পাঠাতে গেলে কান্না করছে। এতে তাদের মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি হতে পারে।”

এ বিষয়ে হলিক্রস স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।