তামিল রাজনীতিতে ঝড়, ইতিহাসের দোরগোড়ায় বিজয়

এক্সিট পোল ইঙ্গিত দিচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠতার; তরুণ ভোটারদের ঢেউয়ে নতুন সমীকরণ।

টুইট ডেস্ক: ভারতের তামিলনাড়ু রাজনীতি এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে। দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় থালাপতি-এর নেতৃত্বে নবগঠিত দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে) প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

বুথফেরত জরিপগুলোতে তার দলের সম্ভাব্য বড় সাফল্যের আভাস মিলছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ আমূল বদলে দিতে পারে।

বিভিন্ন জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিজয়ের দল দুই অঙ্কের আসন পেতে পারে। এমনকি ‘অ্যাক্সিস-মাই ইন্ডিয়া’র জরিপে তাদের ১২০টি আসন পর্যন্ত পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি।

এই ফলাফল বাস্তবে প্রতিফলিত হলে তা হবে তামিল রাজনীতির ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজয়ের উত্থান প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বাইরে। অতীতে এন. টি. রামা রাও, এম. জি. রামচন্দ্রন কিংবা জে. জয়ললিতা দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রস্তুতি ও সংগঠনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন।

কিন্তু বিজয়ের ক্ষেত্রে নেই তেমন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কিংবা শক্তিশালী জোট। তার মূল ভরসা তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে ‘জেন-জি’ ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, এই নির্বাচন মূলত রাজ্যের দুই প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তির বিপরীতে একটি ত্রিমুখী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। সেই লড়াইয়ে বিজয়ের অবস্থান অনেকটাই নির্ধারিত হচ্ছে তার জনপ্রিয়তা ও নতুন ভোটারদের আকর্ষণের ওপর।

এদিকে, বিজয়ের উত্থান নতুন করে আলোচনায় এনেছে আরেক দক্ষিণী তারকা রজনীকান্ত-এর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে। অনেকেই মনে করছেন, সময়ের ব্যবধানে তিনি হয়তো বড় সুযোগটি হারিয়েছেন।

কারণ, বিজয় এখন ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকেই রাজনীতিতে প্রবেশ করে তরুণদের আবেগকে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছেন।

সব মিলিয়ে, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়,বরং তামিল রাজনীতিতে প্রজন্মভিত্তিক পরিবর্তনের এক বড় ইঙ্গিত।

চূড়ান্ত ফলাফলই বলে দেবে, এই ‘জেন-জি ঢেউ’ আদৌ ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারবে কি না।