৭ নভেম্বর ঘিরে দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক আয়োজন, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সাত ব্যান্ডের কনসার্ট

বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান, কবিতা পাঠ, আলোচনা ও প্রামাণ্যচিত্র; নগরবাউল জেমস, মাইলস, ওয়ারফেজসহ সাত ব্যান্ডের সংগীত পরিবেশনা।

টুইট প্রতিবেদক: ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে নেওয়া হয়েছে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। দিবসটির ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সাজিয়েছে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল। পাশাপাশি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাত জনপ্রিয় ব্যান্ডের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত সংগীতানুষ্ঠান।

কবিতা পাঠ, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, প্রামাণ্যচিত্র ও সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠান।

বিটিভির আয়োজন শুরু হয়েছে সকাল থেকেই। সকাল ১০টায় ঢাকার আর্মি স্টেডিয়াম থেকে সশস্ত্র বাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রচারের জন্য রাখা হয়েছে ড. আনারুল হকের উপস্থাপনায় স্বরচিত কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান। এতে আটজন কবির অংশগ্রহণের পাশাপাশি থাকছে বিপ্লব ও সংহতি দিবস নিয়ে রচিত আটটি কবিতা।

রাত ১০টা ৪০ মিনিটে প্রচারিত হবে বিশেষ প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘বিপ্লবের দিনগুলো’। এরপর রাত ১১টায় থাকছে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান। ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুনের উপস্থাপনায় এতে আলোচক হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের।

অন্যদিকে, চ্যানেল আইও দিবসটি উপলক্ষে দিনভর বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরতে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন আয়োজন।

তবে সাংস্কৃতিক আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উন্মুক্ত কনসার্ট ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সাত ঘণ্টার এই আয়োজনে অংশ নিচ্ছে দেশের সাতটি জনপ্রিয় ব্যান্ড নগরবাউল জেমস, মাইলস, ওয়ারফেজ, ফিডব্যাক, আর্টসেল, শিরোনামহীন ও মেকানিক্স।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৩টায় কনসার্টের প্রবেশপথ খুলে দেওয়া হয়েছে। মূল পরিবেশনা শুরু হওয়ার কথা বিকেল ৪টায়। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এবং বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশনের (বামবা) সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ আয়োজন। সবার জন্য উন্মুক্ত এই কনসার্টে সংগীতপ্রেমীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা সভা, দেশাত্মবোধক গানের অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা।

জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত হচ্ছে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র। পাশাপাশি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচারিত হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সিনেমা হল ও ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র।

সব মিলিয়ে আলোচনা, সাহিত্য, সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ আয়োজনের আবহ।