বিয়ের তথ্য গোপন করে সেনাবাহিনীতে চাকরি, পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ

বিয়ের আট বছর পরও নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুরের এক তরুণীর বিরুদ্ধে। পুলিশ যাচাই প্রতিবেদনেও অর্থের বিনিময়ে তাঁকে অবিবাহিত দেখানোর অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
টুইট প্রতিবেদক: রংপুরের মিঠাপুকুরে বিয়ের তথ্য গোপন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আফছানা মিমি নামে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে এক লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশ যাচাই প্রতিবেদনে তাঁকে অবিবাহিত দেখানোর অভিযোগ উঠেছে তদন্তকারী এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের লহনী গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে আফছানা মিমির সঙ্গে একই উপজেলার সদরপুর গ্রামের খায়রুল ইসলামের ২০১৮ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তবে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অবিবাহিত হওয়ার শর্ত থাকায় বিয়ের তথ্য গোপন করে আবেদন করেন তিনি।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুলিশ যাচাই প্রতিবেদনেও তাঁকে অবিবাহিত দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বামী। এ জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে এক লাখ টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর। বর্তমানে আফছানা মিমি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসে প্রশিক্ষণে রয়েছেন।
খায়রুল ইসলামের দাবি, বিয়ের পর স্ত্রীকে গাজীপুরের হাতীমারা কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি করিয়ে দেন তিনি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে বিরোধ দেখা দেয়। ২০২৩ সালে স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। সেনাবাহিনীতে চাকরিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি তাঁকে না জানানোয় চলতি বছরের ৮ এপ্রিল স্ত্রীকে তালাক দেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আফছানা মিমির মা রুপালী বেগম। তাঁর দাবি, মেয়েকে অল্প বয়সে খায়রুলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। স্বামীর বিরুদ্ধে মেয়েকে নির্যাতন ও মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
পুলিশ কর্মকর্তাকে এক লাখ টাকা দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করে রুপালী বেগম বলেন, তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তাকে চার হাজার টাকা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বিয়ে হলেও তাঁদের কোনো কাবিননামা হয়নি। ফলে বিয়ের বিষয়টি প্রমাণ করা সম্ভব নয়।
এদিকে প্রশিক্ষণে থাকায় আফছানা মিমির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ যাচাই প্রতিবেদনে বিবাহিত নারীকে অবিবাহিত দেখানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, পুলিশ যাচাই একটি গোপনীয় বিষয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম-পরিচয় প্রকাশের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি ঘিরে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় তথ্য যাচাইয়ের স্বচ্ছতা এবং পুলিশি তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।






