জয় পেল বাংলাদেশ, অসন্তোষ নিয়ে ফিরলেন সমর্থকরা

ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু বাংলাদেশের; একের পর এক সুযোগ নষ্টে হতাশ দর্শকরা

টুইট প্রতিবেদক: ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম আসরে শুভসূচনা করেছে বাংলাদেশ। তবে মাঠের এই জয় পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি স্বাগতিক সমর্থকদের। একের পর এক গোলের সুযোগ নষ্ট, দলের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন এবং মাঠের বাইরের নানা অসন্তোষ মিলিয়ে ম্যাচ শেষে তাঁদের কণ্ঠে শোনা গেছে ক্ষোভ। টিম বাস স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় ‘বাংলাদেশ ফুটবলে সিন্ডিকেট চলবে না’ স্লোগান দেন সমর্থকরা।

র‌্যাঙ্কিং ও শক্তিমত্তায় বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে থাকা ভুটানের বিপক্ষে প্রত্যাশিত দাপট দেখাতে পারেনি স্বাগতিকরা। ম্যাচের শুরু থেকেই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। শেষ পর্যন্ত বদলি হিসেবে নামা মোহাম্মদ ইব্রাহিমের গোলে স্বস্তির জয় পায় দল।

ম্যাচের ৬৪ মিনিটে মাঠে নামেন ইব্রাহিম। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। জায়ান আহমেদের ক্রসে সামিত সোমের হেড থেকে বল পেয়ে ভলিতে জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। তাঁর ওই গোলই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জয়ের ব্যবধান নির্ধারণ করে।

ম্যাচের আগে ভুটানের বিপক্ষে বড় জয়ের প্রত্যাশা ছিল সমর্থকদের। কিন্তু ১-০ গোলের জয় তাঁদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বিশেষ করে প্রথমার্ধে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করায় হতাশা প্রকাশ করেন দর্শকরা।

আজিমপুর থেকে খেলা দেখতে আসা ব্যবসায়ী শরিফুল আলমের প্রত্যাশা ছিল আরও বড় জয়। তাঁর মতে, প্রথম ৩০ মিনিটের মধ্যেই বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারত। তবে জয় পাওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট এবং পরের ম্যাচে দলের আরও ভালো পারফরম্যান্সের আশা করছেন।

নিয়মিত মাঠে উপস্থিত থাকা সমর্থক খোরশেদ মাতবর আলমগীরও এক গোলের জয়ে কিছুটা অতৃপ্তির কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁর কাছে দিনশেষে জয় পাওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে সমর্থক সুমন ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আল আমিনের মতে, ভুটানের বিপক্ষেই যদি গোল করতে এতটা বেগ পেতে হয়, তাহলে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মতো দলের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে বাংলাদেশকে। তাঁদের ভাষ্য, এতগুলো সুযোগ পেয়েও আরও কয়েকটি গোল করতে না পারা হতাশাজনক।

এ ছাড়া ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও সমর্থকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে সমালোচনা থাকলেও ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থকদের ভালোবাসার কমতি ছিল না। স্টেডিয়ামের ফটকে ফুটবলারদের জন্য অপেক্ষা করেন তাঁরা। ইব্রাহিম, বিশ্বনাথ ও ফাহমিদুলের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং সেলফি নেন। কোচ থমাস ডুলিকেও ঘিরে ধরেন সমর্থকরা। তিনি অটোগ্রাফ ও ছবি তুলে তাঁদের আবদারে সাড়া দেন।

সব মিলিয়ে মাঠের জয় বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির হলেও সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে দলকে। বিশেষ করে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আক্রমণভাগের কার্যকারিতা ও গোল করার সক্ষমতা বাড়ানোই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।