ঢাকায় আসছেন চীনা মন্ত্রী, কাল সাক্ষাৎ রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর

তিন দিনের সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা; থাকছে রাজনৈতিক সংলাপ, সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিভিন্ন কর্মসূচি।
টুইট প্রতিবেদক: তিন দিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে আজ মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় আসছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। সফরকালে আগামীকাল বুধবার রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে চীনা এই নেতার। ৩ থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর এ সফরে বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বুধবার প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন লিউ হাইশিং। একই দিন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শনেরও কথা রয়েছে তাঁর।
এ ছাড়া বুধবার ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে একটি গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে চীনা মন্ত্রীর। একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-চীন রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্র পরিচালনাবিষয়ক গবেষণাকেন্দ্রের উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে।
সফরের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের দেওয়া প্রাতরাশে অংশ নেবেন লিউ হাইশিং। পরে তাঁদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার মাতুয়াইল এলাকায় একটি দাতব্য বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর।
তিন দিনের সফর শেষে বৃহস্পতিবারই ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে চীনা এই নেতার।
বাংলাদেশের সঙ্গে পারিবারিক যোগসূত্র
লিউ হাইশিংয়ের বাংলাদেশ সফরে পারিবারিক ইতিহাসও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। তাঁর বাবা লিউ শুচুইং আশির দশকে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০ সালের আগস্টে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছিলেন তিনি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষণে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধানের এই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। বিশেষ করে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ রয়েছে।
এ সফরে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে।






