জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ-পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি সরবরাহ, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় গুরুত্ব

টুইট ডেস্ক: বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা এবং চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। বৈঠকে জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, বিকল্প উৎস ও সরবরাহপথ নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিকের সঙ্গে আলোচনা করেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ও সরবরাহের ওপর এর প্রভাব এবং জ্বালানি সরবরাহের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজ নিজ দেশের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিশেষ করে বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব কমানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে।

পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামবিষয়ক মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। জনসাধারণকে স্বস্তি দিতে লক্ষ্যভিত্তিক জ্বালানি ভর্তুকি কার্যক্রমসহ সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কেও তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে অবহিত করেন।

বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘নজিরবিহীন জ্বালানি সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে আলী পারভেজ মালিক বলেন, এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা ও অর্জিত শিক্ষা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের নেওয়া পদক্ষেপ এবং উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সংকট জাতীয় জ্বালানি কৌশলে জ্বালানি নিরাপত্তাকে কেন্দ্রীয় বিবেচনায় রাখার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করেছে। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় যেকোনো ধরনের বিঘ্নের ঝুঁকি কমাতে জ্বালানির উৎস ও সরবরাহপথ বহুমুখীকরণের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে ইরান-সংশ্লিষ্ট সংঘাতের উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, চলমান সংকটের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে ছড়িয়ে পড়ায় উত্তেজনা প্রশমন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।

এ সময় কঠিন বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও কাতার থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিতুমীর। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার এ উদ্যোগের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে জ্বালানি খাতে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়। পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা মোকাবিলা, জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ সংকটের ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং সরবরাহপথের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা জ্বালানি নিরাপত্তা, বিকল্প সরবরাহ উৎস অনুসন্ধান এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।