স্বামী-স্ত্রী অজান্তেই পরস্পরের যে ৫ অভ্যাস রপ্ত করেন

দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাসের ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তৈরি হয় নানা ধরনের মিল। কথা বলার ধরন থেকে শুরু করে খাবারের পছন্দ, দৈনন্দিন রুটিন কিংবা বিনোদনের অভ্যাস অনেক কিছুই তাঁরা অজান্তে একে অপরের কাছ থেকে গ্রহণ করেন। সম্পর্কের স্বাভাবিক প্রভাবে ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া এসব পরিবর্তন অনেক সময় নিজেরাও বুঝতে পারেন না।
টুইট প্রতিবেদক: দম্পতিরা সাধারণত যে পাঁচটি বিষয় পরস্পরের কাছ থেকে অনুকরণ করেন, সেগুলো হলো,
১. কথা বলার ধরন
দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার ফলে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের ব্যবহৃত শব্দ, বাক্য, উচ্চারণ ও কথোপকথনের ধরন আয়ত্ত করে ফেলেন। সঙ্গী যে শব্দ বা অভিব্যক্তি প্রায়ই ব্যবহার করেন, একসময় অন্যজনের কথাতেও সেগুলো চলে আসে। সচেতনভাবে অনুকরণ না করলেও এই পরিবর্তন ঘটে স্বাভাবিকভাবেই।
২. খাবারের পছন্দ
সঙ্গীর পছন্দের খাবারের প্রতি ধীরে ধীরে আগ্রহ তৈরি হতে পারে। আগে যে ব্যক্তি কফি পছন্দ করতেন না, তিনিও হয়তো সঙ্গীর সঙ্গে নিয়মিত কফি পান করতে শুরু করেন। একসঙ্গে বিভিন্ন খাবার চেখে দেখার ফলে রুচি ও খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আসে।
৩. দৈনন্দিন রুটিন
দাম্পত্য জীবন দুজনের দৈনন্দিন সময়সূচিতে প্রভাব ফেলে। একজন আগে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকলেও সঙ্গীর অভ্যাসের কারণে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যেতে পারেন। একইভাবে সকালের কাজ, শরীরচর্চা কিংবা সপ্তাহান্তের পরিকল্পনাতেও একে অপরের প্রভাব দেখা যায়।
৪. বিনোদনের পছন্দ
সম্পর্কের আগে যে ব্যক্তি ফুটবল দেখতেন না, তিনিও সঙ্গীর আগ্রহে নিয়মিত খেলা দেখতে শুরু করতে পারেন। আবার একজনের পছন্দের সিনেমা, নাটক, গান কিংবা অনুষ্ঠান অন্যজনের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এভাবেই বিনোদনের জগতে দুজনের পছন্দের মধ্যে মিল তৈরি হয়।
৫. প্রতিক্রিয়া ও অঙ্গভঙ্গি
শুধু অভ্যাস কিংবা পছন্দ নয়, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের শারীরিক অঙ্গভঙ্গি, মুখের অভিব্যক্তি ও প্রতিক্রিয়া জানানোর ধরনও অনুকরণ করেন। সঙ্গীর বিশেষ কোনো অঙ্গভঙ্গি, রসবোধ কিংবা কথা বলার সময়ের অভিব্যক্তি অন্যজনের মধ্যেও ধীরে ধীরে দেখা দিতে পারে।
দম্পতিদের মধ্যে এসব ছোট ছোট মিল তৈরি হওয়া একসঙ্গে সময় কাটানোর স্বাভাবিক অংশ। এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা নিজেদের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলছেন। বরং দীর্ঘদিনের সঙ্গ তাঁদের নতুন অভ্যাস, আগ্রহ ও জীবনযাপনের সঙ্গে পরিচিত করে তোলে। একসময় এসব অভ্যাসই হয়ে ওঠে তাঁদের যৌথ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।






