শৌচাগারে বসে ফোনে কথা বলা নিয়ে ইসলামের নির্দেশনা

অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহারের পরামর্শ, জরুরি প্রয়োজনে কথা বলার সুযোগ
টুইট ডেস্ক : আধুনিক জীবনে মুঠোফোন মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। যোগাযোগ থেকে শুরু করে বিনোদন-সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার বাড়ছে। এমনকি অনেকেই শৌচাগারে যাওয়ার সময়ও ফোন সঙ্গে নিয়ে যান। কেউ সেখানে বসে কথা বলেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। তবে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির পাশাপাশি ইসলামি শিষ্টাচারের দৃষ্টিতেও এ অভ্যাস নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শৌচাগারে মুঠোফোন ব্যবহারের ফলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে অপরিষ্কার হাতে ফোন স্পর্শ করলে জীবাণু ফোনের গায়ে লেগে থাকতে পারে। পরে সেই ফোন ব্যবহার করার মাধ্যমে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
এ ছাড়া শৌচাগারের কমোডে দীর্ঘ সময় বসে মুঠোফোন ব্যবহার করলে অর্শরোগসহ কিছু শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় শৌচাগারে অবস্থান না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ইসলামি শিষ্টাচার অনুযায়ী, শৌচাগারে অবস্থানকালে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকা উত্তম। ইসলামি ফিকহের আলোচনায় শৌচকর্মের সময় বিনা প্রয়োজনে কথা বলাকে সাধারণভাবে মাকরুহ বা অপছন্দনীয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে বিশেষ প্রয়োজনে কথা বলার অনুমতি রয়েছে। যেমন শৌচাগারে পানি বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী শেষ হয়ে গেলে কাউকে সাহায্যের জন্য ডাকা যেতে পারে। একইভাবে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করাও নিষিদ্ধ নয়।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে শৌচকর্মের সময় আল্লাহর নাম, পবিত্র কোরআনের আয়াত, জিকির কিংবা দোয়া উচ্চারণ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পরিস্থিতি ও প্রয়োজনভেদে ইসলামি আইনবিদদের ব্যাখ্যায় কিছু পার্থক্য রয়েছে।
সুতরাং স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ধর্মীয় শিষ্টাচার বজায় রাখতে শৌচাগারে অপ্রয়োজনীয় মুঠোফোন ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় অবস্থান এড়িয়ে চলাই উত্তম। জরুরি প্রয়োজনে কথা বলা গেলেও সাধারণ কথোপকথনের জন্য শৌচাগারের বাইরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।






