তাহসিফ হত্যা মামলায় বন্ধু দীপ গ্রেপ্তার, ৭ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

তুরাগ নদ থেকে মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন পর বাবার করা মামলায় গ্রেপ্তার

টুইট ডেস্ক : বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তাঁর বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর আগে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) নৌ পুলিশের তুরাগ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোস্তাফিজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, উত্তরখান থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরিবারের দাবি, বন্ধু দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি।

নিখোঁজ হওয়ার আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যায়। সেখানকার নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্যে তাঁদের হাত মেলানোর পর পৃথক মোটরসাইকেলে চলে যেতে দেখা গেছে।

পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। তাঁর হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা মুঠোফোনের সূত্র ধরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গভীর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরদিন তাঁকে নিয়ে তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখান থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি কালো রঙের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন তাঁদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে তাঁর এই বক্তব্যের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

এদিকে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম শুরু থেকেই ছেলের মৃত্যুকে সন্দেহজনক বলে দাবি করে আসছেন। তাঁর বক্তব্য, তাহসিফ সাঁতার জানতেন। ফলে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর ডুবে মৃত্যুর ব্যাখ্যা নিয়ে তাঁর সন্দেহ রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীপের বক্তব্যে পাওয়া অসংগতি, উদ্ধার করা মোটরসাইকেল এবং ঘটনার আগের ও পরের পরিস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে। তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।