বাংলাদেশকে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তাব জার্মানির, দাবি প্রতিরক্ষা অ্যাকাউন্টের

Diehl Defence ও MSAN-এর কথিত প্রস্তাবে আলোচনায় IRIS-T SLM

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর (বিএএফ) কাছে মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা IRIS-T SLM দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে জার্মান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Diehl Defence ও বাংলাদেশের MSAN—এমন দাবি করেছে প্রতিরক্ষাবিষয়ক অ্যাকাউন্ট DefenseDtb।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত অ্যাকাউন্টটির এক এক্সক্লুসিভ পোস্টে এ দাবি করা হয়। তবে এ প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত প্রস্তাবটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টিকে এখনই নিশ্চিত প্রতিরক্ষা চুক্তি বা ক্রয়-প্রক্রিয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

কী এই IRIS-T SLM

IRIS-T SLM জার্মানির Diehl Defence নির্মিত মাঝারি পাল্লার ভূমিভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এটি যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মতো আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহারের জন্য তৈরি। ব্যবস্থাটিতে লক্ষ্য শনাক্তকরণ ও অনুসরণের রাডার, নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযান সমন্বিতভাবে কাজ করে।

প্রকাশিত নির্মাতা-তথ্য অনুযায়ী, ব্যবস্থাটির ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৪০ কিলোমিটার এবং উচ্চতাভিত্তিক কার্যক্ষমতা প্রায় ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রকৃত কার্যকর পাল্লা লক্ষ্যবস্তুর ধরন, উড্ডয়ন উচ্চতা ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

ব্যবস্থাটিতে আধুনিক রাডার ও সমন্বিত কমান্ড-নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে একই সময়ে একাধিক আকাশপথের হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের পর ব্যবস্থাটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা অঙ্গনে বিশেষ মনোযোগ পেয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘপাল্লার প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। মাঝারি পাল্লার আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা যুক্ত হলে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত অবকাঠামোর আকাশ প্রতিরক্ষায় সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী বর্তমানে কোন কোন ব্যবস্থা মূল্যায়ন করছে, IRIS-T SLM নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে কি না কিংবা এ বিষয়ে কোনো ক্রয়-সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

Diehl Defence ও MSAN-এর কথিত প্রস্তাবটি বাস্তব হলে তা বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নে সম্ভাব্য ইউরোপীয় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু প্রস্তাবের শর্ত, সম্ভাব্য ব্যয়, সরবরাহের সময়সীমা কিংবা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণযানের সংখ্যা সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

তাই প্রতিরক্ষা অ্যাকাউন্টটির দাবিকে আপাতত সম্ভাব্য প্রস্তাবসংক্রান্ত তথ্য হিসেবেই দেখা উচিত। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।