আস্থার ২৭ বছরে এমটিবি, রাজশাহী শাখায় গ্রাহকদের নিয়ে উদ্‌যাপন

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গ্রাহক সচেতনতা কর্মসূচি, সুশাসন ও দায়িত্বশীল ব্যাংকিংয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজশাহী শাখায় গ্রাহক সমাবেশ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করেছে। ব্যাংকটির এ বছরের পথচলার প্রতিপাদ্য—‘২৭ Years Anchored in Trust’, অর্থাৎ আস্থার ভিত্তিতে এগিয়ে চলা।

রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘২৭ Years Anchored in Trust’—আস্থার ভিত্তিতে এগিয়ে চলা।

১৯৯৯ সালের ২৪ অক্টোবর ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে এমটিবি। এর আগে ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স পায় ব্যাংকটি। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন সৈয়দ মনজুর এলাহী। গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ককে ব্যাংকটি বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

এমটিবি রাজশাহী শাখার ব্যবস্থাপক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “গ্রাহকদের আস্থা ও ভালোবাসাই আমাদের পথচলার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। প্রতিষ্ঠার ২৭ বছরে এমটিবি গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। যখন ব্যাংকিং খাতে মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তখনও এমটিবি গ্রাহকদের আস্থা ধরে রেখেছে। আপনাদের আমানত এমটিবিতে সুরক্ষিত রাখতে আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সেবা দিয়ে যাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে ব্যাংকটি। ভবিষ্যতেও পেশাদারত্ব, স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে গ্রাহকদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে গ্রাহকেরা ব্যাংকের সেবা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এমটিবি রাজশাহী শাখার কাস্টমার সার্ভিস অফিসার কাজী মনজিলা আরজু গ্রাহকদের প্রতারণার বিভিন্ন ধরন ও ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করেন। পাশাপাশি প্রতারণা এড়ানোর উপায় তুলে ধরে গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, আস্থা অর্জনে দীর্ঘ সময় লাগে, কিন্তু তা প্রতিদিন ধরে রাখতে হয়। ব্যাংকিং খাতের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও গ্রাহকদের আমানত অব্যাহত থাকাকে তিনি তাঁদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

ব্যাংকটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আমানতের বিপরীতে ঋণ ও অগ্রিমের অনুপাত (এডিআর) প্রায় ৬৯–৭০ শতাংশ। খেলাপি ঋণের হার ৬ শতাংশের কিছু বেশি; অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে ব্যাংকিং খাতের গড় খেলাপি ঋণের হার ৩২ শতাংশের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত তিন বছরে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার প্রভিশন সংরক্ষণ করেছে এমটিবি। মূলধন শক্তিশালী করার পরিকল্পনায় টায়ার-১ মূলধন প্রায় ৩৪৪ কোটি টাকা এবং সাবঅর্ডিনেটেড বন্ডের মাধ্যমে ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এমটিবিতে পরিচালনা পর্ষদ নীতি নির্ধারণ ও তদারকি করে এবং ব্যবস্থাপনা দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করে। সুশাসন জোরদারের পাশাপাশি ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ও টেলিযোগাযোগ অপারেটরদের সঙ্গে কাজ করে ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণ করছে ব্যাংকটি। একই সঙ্গে ডিজিটাল সেবায় নিয়ন্ত্রক তদারকি শক্তিশালী রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শাখা, উপশাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার, এটিএম ও ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে দেশজুড়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এমটিবি। বর্তমানে এমটিবি দেশের গ্রাহকদের ১২২টি শাখা, ৫৮টি উপশাখা, ১৯০টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট ও ১৫টি ইসলামী ব্যাংকিং শাখার মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে। এ ছাড়া ব্যাংকটির রয়েছে ৩৬১টি এটিএম বুথ, ৬ হাজার ৯০৮টি পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) এবং ৮টি এয়ার লাউঞ্জ। এসব সেবা ও সুবিধার মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও সহজ ও বিস্তৃত করা হয়েছে।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির ২৭তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ২০২৫ সালের জন্য ১২ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড অনুমোদন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বার্তায় গ্রাহকদের আস্থাকে অগ্রযাত্রার প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে আস্থাভিত্তিক ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয় জানিয়েছে ব্যাংকটি।

প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর পূর্তিতে রাজশাহী শাখার এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে গ্রাহকসম্পর্ক সুদৃঢ় করা, প্রতারণা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং দায়িত্বশীল ব্যাংকিংয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।