ইশরাকের অভিযানের পরও জমজমাট মাদক কারবার

গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকায় অভিযানের পরদিনই প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা, দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি স্থানীয়দের

টুইট ডেস্ক : রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর পরদিনই আবারও প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ কারবার সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। অভিযানের পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় মাদক নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত শনিবার দয়াগঞ্জের ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অভিযানের সময় তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই অভিযানে কয়েকজন আটক হলেও পরদিন রোববার এলাকায় মাদক কেনাবেচা চলতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং থেকে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন পর্যন্ত রেললাইনের পশ্চিম পাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের কারবার চলছে। সেখানে দিন-রাত ক্রেতা ও বিক্রেতাদের আনাগোনা থাকে। খুচরা বিক্রির পাশাপাশি বড় পরিসরেও মাদক কেনাবেচা হয় বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মাদক কারবারের কারণে সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের চলাচলে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও কর্মজীবী মানুষকে নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান খান জানান, ওই এলাকায় মাদক কেনাবেচা বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। অভিযানে একসঙ্গে ২০ থেকে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে অনেকে আবার একই কারবারে জড়িয়ে পড়েন। এলাকায় ভাসমান মানুষের আনাগোনা বেশি থাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেছিলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেও মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। অভিযানে নিজের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র সঙ্গে রেখেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে অভিযানের সময় ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে দেওয়া হয়েছে। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।