তিন পাহাড়ের ‘ডায়মন্ড’ ধান্য মরিচ, ঘ্রাণে-ঝালে অনন্য

প্রাকৃতিকভাবে জুমে চাষ, কেজি ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি শুকনো মরিচ; জীবিকার বড় ভরসা পাহাড়ি চাষিদের

টুইট ডেস্ক:আকারে ধানের মতো চিকন, কিন্তু ঝালে আগুন, ঘ্রাণে মাতাল করা – এটাই পার্বত্য চট্টগ্রামের ডায়মন্ড, জুমের ধান্য মরিচ স্থানীয়দের কাছে যা জুম্ম মরিচ, ধন্য মরিচ নামেও পরিচিত।

তিন পার্বত্য জেলা – বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ির পাহাড়ি ঢালে এই মরিচের জন্ম। চিম্বুক, রোয়াংছড়ি, আলীকদম, থানচি, রুমার গহীন জুমে ম্রো, মারমা, ত্রিপুরা চাষিরা বংশ পরম্পরায় এটি চাষ করে আসছেন।

জুম চাষ হলো পাহাড়ের ঢালে ফাল্গুন-চৈত্রে জঙ্গল পুড়িয়ে বৈশাখের প্রথম বৃষ্টিতে গর্ত খুঁড়ে মিশ্র চাষ। একই গর্তে ধান, আদা, হলুদ, তিল, বেগুনের সাথে বোনা হয় এই মরিচ। ধানের সাথী ফসল বলে নাম হয়েছে ধান্য বা ধানী মরিচ।

এর বিশেষত্ব হলো – কোনো সার নেই, কীটনাশক নেই, একদম প্রাকৃতিক। পাহাড়ের বৃষ্টির পানিতেই বেড়ে ওঠে। তাই এর ঘ্রাণটা একদম খাঁটি পাহাড়ি।

ঝাল আর ঘ্রাণের জাদু:

একটি মরিচ ভাঙলেই পুরো রান্নাঘর গন্ধে ভরে যায়। ছোট্ট একটা মরিচের ঝাল সাধারণ মরিচের ২-৩ গুণ। পাহাড়ি ভর্তা, নাপ্পি, মাছের ঝোল, আচার বা সালাদ – যেখানেই পড়ে, স্বাদ বদলে যায়।

বান্দরবান শহরের আড়তদার মো: সামছুল হক জানান, “প্রতিদিন অজপাড়া গাঁ থেকে জুমিয়ারা ১০০ কেজির মতো নিয়ে আসে। আমরা ১৭০- ১৮০ টাকা কেজি দরে কিনি। চট্টগ্রামসহ সমতলের বিভিন্ন জেলায় এর চাহিদা অনেক বেশি, তাই ওই দামেই পাঠিয়ে দিতে হয়। কাঁচা ১৯০-২০০ টাকা হলেও শুকনো ধান্য মরিচ ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়।”

জুমিয়ার জীবিকার ডায়মন্ড:

এটি শুধু মরিচ নয়, জুমিয়া পরিবারের অর্থনীতির বড় ভরসা। ধান ওঠার আগেই মরিচ বিক্রি করে সংসার চলে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, অনাবৃষ্টি-অতিবৃষ্টি আর জুমের জমি কমে যাওয়ায় এই ঐতিহ্যবাহী ফসলটি এখন হুমকির মুখে।

তিন পাহাড়ের এই ডায়মন্ডকে বাঁচিয়ে রাখা মানে জুম সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা।

আপনি যদি একবার এই ঘ্রাণের প্রেমে পড়েন, বাজারের আর কোনো মরিচে আপনার মন ভরবে না।