তালা ভেঙে প্রবেশের পর ১১ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েটের ভিসি

পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, বাসে হামলা ও শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা

টুইট ডেস্ক: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে প্রবেশের পর টানা ১১ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলম।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তার কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ ভিসির জন্য কলা, বিস্কুট ও পানি পাঠান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকালে উপাচার্যের কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে, জেনারেটর কক্ষেও তালা দেওয়া হয়। ফলে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে উপাচার্যের কার্যালয়। রাত ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ভবনের বাইরে অবস্থান করছিলেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এদিকে ক্যাম্পাসমুখী শিক্ষার্থীদের বাসে হামলা ও এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ক্যাম্পাসে। উপাচার্যের পদত্যাগ ও নিয়োগবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তিন সংগঠনও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

সোমবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে মাইক্রোবাসে করে চুয়েট ক্যাম্পাসে যান উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলম। এরপর তালাবদ্ধ প্রশাসনিক ভবন-২-এর উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে তালা ভাঙা হয়। তার সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তিকেও দেখা যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন এবং ভবনে তালা দেন।

এর আগে, ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটে নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সোমবার আন্দোলনের ২১ দিন পার হওয়ার পর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য।

এদিকে সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় চুয়েটগামী একটি বাস থামিয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থীকে ঘিরে ধরে তার জামাকাপড় ও চুল ধরে টানাটানি করা হয়। তাকে ছাত্রলীগ-শিবিরের তকমা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাসে হামলা ও শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় উপাচার্যের ইন্ধন রয়েছে। তার নির্দেশেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একই দিন হাটহাজারীর কুয়াইশ এলাকায় ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে চুয়েটমুখী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বাধা দেওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনাও ক্যাম্পাস ঘিরে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে, চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথ বিবৃতিতে উপাচার্যের বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনায় আপত্তি জানিয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তিন সংগঠন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলমকে অবরুদ্ধ রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি এখানে নিজের ইচ্ছায় আসিনি। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। শিক্ষার্থীরা হয়তো আমার ওপর সংক্ষুব্ধ হতে পারেন। কিন্তু এখানে আরও অনেককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি, আমিও চুয়েটের সাবেক ছাত্র। আন্দোলনকারীরা আমার ছোট ভাই। আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই।