আদালতে হট্টগোল, কারাগারে আখতারুজ্জামান

জামিন শুনানিতে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হাতাহাতি; বিচারক একবার এজলাস ছেড়ে খাসকামরায়, পরে জামিন নামঞ্জুর।

টুইট প্রতিবেদক: মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক হট্টগোল, তর্কাতর্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে বিচারক একবার এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে তিনি ফিরে এসে শুনানি নেন।

রোববার দুপুরে বিচারক জামসেদ আলমের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। শুনানি শেষে আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

আখতারুজ্জামানকে গত শুক্রবার ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং একজন কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।

আখতারুজ্জামানের পক্ষে জামায়াতপন্থী একদল আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিচারক এজলাসে আসার আগেই আদালতকক্ষে দাঁড়ানোর জায়গা নিয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোল শুরু হয়।

বেলা ২টা ৪১ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসেন। কিন্তু আইনজীবীদের উত্তেজনা না কমায় তিনি এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান। চার মিনিট পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে আবার এজলাসে ফিরে শুনানি শুরু করেন।

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আখতারুজ্জামান বিচারকের কাছে তাঁর পক্ষে ১০ জন আইনজীবীকে শুনানিতে অংশ নেওয়ার অনুমতি চান। পরে তাঁর আইনজীবীরা জামিনের পক্ষে যুক্তি দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক বলেন, আখতারুজ্জামান কয়েকবারের সংসদ সদস্য, সাবেক মেজর ও মুক্তিযোদ্ধা। বিমানবন্দরে তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি মূলত অন্যায়ের প্রতিবাদ। রাজনৈতিক কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি আখতারুজ্জামান অসুস্থ এবং নানা রোগে আক্রান্ত উল্লেখ করে যেকোনো শর্তে তাঁর জামিন চান।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে একটি দৃশ্যচিত্রের কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, বিমানবন্দরে আখতারুজ্জামান মালামাল ছুড়ে মারাসহ আক্রমণাত্মক আচরণ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রতিবাদ করা অপরাধ নয়, তবে প্রতিবাদের নামে কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করা গ্রহণযোগ্য নয়।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যের একপর্যায়ে জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা উত্তেজিত হয়ে প্রতিবাদ জানান। পরে আসামিপক্ষও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যের সমালোচনা করে। এ সময় আদালতকক্ষে আবারও উচ্চবাচ্য ও তর্কাতর্কি শুরু হয়।

শুনানির একপর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষ আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বক্তব্য দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। বেলা ৩টা ৮ মিনিটের দিকে আবার হইচই শুরু হলে বিচারক আইনজীবীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দেন।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতের আদেশের পর পুলিশ কঠোর নিরাপত্তায় আখতারুজ্জামানকে নিচে নামিয়ে আনার সময় আদালত ভবনের নিচেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বিক্ষোভরত জামায়াতপন্থী আইনজীবী ও তাঁদের সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি হয়। পুলিশ পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আখতারুজ্জামানকে নিরাপদে আদালত ভবন থেকে বের করে নিয়ে যায়।
ঘটনার জন্য দুই পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ করেন, জামায়াতপন্থীরা পরিকল্পিতভাবে লোক জড়ো করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁরা বাইরে থেকে কোনো লোক আনেননি।

আখতারুজ্জামান একসময় বিএনপির হয়ে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। ফলে তাঁর জামিন শুনানিকে ঘিরে আদালতের ভেতর ও বাইরে দুই রাজনৈতিক পক্ষের সমর্থক আইনজীবীদের মুখোমুখি অবস্থান নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনারও প্রকাশ ঘটিয়েছে।