ঐশ্বরিয়াকে পাঁচ ছবি থেকে বাদ দিয়েছিলেন শাহরুখ

পুরোনো সাক্ষাৎকার ছড়িয়ে পড়ায় ফের আলোচনায় সেই ঘটনা, ‘কেন’ প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা।
টুইট প্রতিবেদক: একসময় বলিউডের জনপ্রিয় জুটি ছিলেন শাহরুখ খান ও ঐশ্বরিয়া রাই। ‘জোশ’, ‘মোহাব্বতে’ ও ‘দেবদাস’-এ তাঁদের অভিনয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। বিশেষ করে ‘দেবদাস’-এর সাফল্যের পর তাঁদের আরও একাধিক ছবিতে একসঙ্গে দেখার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু এরপরই বদলে যায় পরিস্থিতি। কয়েকটি আলোচিত ছবি থেকে ঐশ্বরিয়াকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে বহু বছর পর অভিনেত্রী নিজেই কথা বলেছিলেন সিমি গারেওয়ালের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকটি ছবিতে শাহরুখের সঙ্গে কাজ করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো আর হয়নি। কেন তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তাঁকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি সেই পুরোনো সাক্ষাৎকারের ভিডিও ও প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি আবার আলোচনায় এসেছে।
‘কেন’ প্রশ্নের উত্তর পাননি ঐশ্বরিয়া
সিমি গারেওয়াল যখন জানতে চান, শাহরুখের সঙ্গে তাঁর পাঁচটি ছবিতে কাজ করার কথা ছিল কি না, ঐশ্বরিয়া জানান, কয়েকটি প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করার আলোচনা চলছিল। কিন্তু পরে হঠাৎ সেগুলো আর এগোয়নি।
তাঁকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছিল—এ বিষয়ে সরাসরি কোনো কারণ জানানো হয়নি বলেও জানান তিনি। বিষয়টি তাঁকে হতাশ ও আহত করেছিল। তবে কারও কাছে গিয়ে কারণ জানতে চাওয়া তাঁর স্বভাব নয় বলেও উল্লেখ করেন ঐশ্বরিয়া।
‘চলতে চলতে’তে শুটিংও করেছিলেন
ঐশ্বরিয়াকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল ২০০৩ সালের ‘চলতে চলতে’। ছবিতে শাহরুখের বিপরীতে প্রথমে ঐশ্বরিয়াকেই নেওয়া হয়েছিল। এমনকি তাঁর সঙ্গে শুটিংও শুরু হয়েছিল।
পরিচালক আজিজ মির্জা ২০২৫ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে এক দিন শুটিং হয়েছিল। তাঁরা ‘প্রেম নগরিয়া’ গানের দৃশ্য ধারণ করেছিলেন। পরে পরিস্থিতি বদলে গেলে ছবিতে ঐশ্বরিয়ার পরিবর্তে রানী মুখার্জিকে নেওয়া হয়।
ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে সালমান খানের সম্পর্কের টানাপোড়েনের সময়েই এই ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন পুরোনো প্রতিবেদনে শুটিংস্থলে সালমানের উপস্থিতি ও কিছু ঘটনার সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার বাদ পড়ার বিষয়টি যুক্ত করা হলেও, সেসব বর্ণনায় ভিন্নতা রয়েছে।
সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে আক্ষেপের কথা বলেছিলেন শাহরুখ
ঐশ্বরিয়াকে ‘চলতে চলতে’ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে শাহরুখ খান নিজেও কথা বলেন। ২০০৩ সালে ‘ইন্ডিয়া টুডে’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, একটি ছবির কাজ শুরু করার পর কোনো অভিনেত্রীকে পরিবর্তন করা কঠিন ও দুঃখজনক।
ঐশ্বরিয়াকে বন্ধু উল্লেখ করে শাহরুখ বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর মনে হয়েছিল, তিনি ভুল করেছেন। তবে প্রযোজক হিসেবে সে সময় ব্যবসায়িক কিছু কারণও বিবেচনায় ছিল বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলেন শাহরুখ।
পরে আরেক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ জানান, বিষয়টি কেবল তাঁর একার সিদ্ধান্ত ছিল না। ছবিটির প্রযোজনার সঙ্গে আরও অনেকে যুক্ত ছিলেন এবং তখন তাঁদের প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠানও নানা চাপের মধ্যে ছিল।
‘বীর-জারা’ নিয়েও ছিল আলোচনা
শাহরুখ ও ঐশ্বরিয়ার আরেক আলোচিত সম্ভাব্য ছবি ছিল ‘বীর-জারা’। শেষ পর্যন্ত ছবিতে শাহরুখের বিপরীতে অভিনয় করেন প্রীতি জিনতা। ছবিটি মুক্তির পর বড় সাফল্যও পায়।
তবে পুরোনো বিভিন্ন প্রতিবেদনে ঐশ্বরিয়ার নাম ছবিটির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উঠে এসেছে। সিমি গারেওয়ালের সাক্ষাৎকারেও ‘বীর-জারা’র প্রসঙ্গ এসেছিল। তবে শাহরুখের সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার যে পাঁচটি ছবির কথা বলা হয়, সেগুলোর পূর্ণ ও নির্ভুল তালিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে।
এক দশক পর আবার একই ছবিতে
‘জোশ’, ‘মোহাব্বতে’ ও ‘দেবদাস’-এর পর শাহরুখ-ঐশ্বরিয়া জুটিকে দীর্ঘ সময় আর পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবিতে দেখা যায়নি। ২০১৬ সালে করণ জোহরের ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ ছবিতে আবার তাঁদের পর্দায় দেখা যায়।
তবে এবার তাঁরা ছবির মূল জুটি ছিলেন না। ঐশ্বরিয়া অভিনয় করেন সাবার চরিত্রে। শাহরুখকে দেখা যায় তাঁর সাবেক স্বামীর ভূমিকায় স্বল্প সময়ের উপস্থিতিতে।
একসময় যাঁদের একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার কথা ছিল, শেষ পর্যন্ত তাঁদের আবার দেখা যায় কয়েকটি দৃশ্যে। পুরোনো সেই বাদ পড়ার ঘটনা নিয়ে ঐশ্বরিয়ার সাক্ষাৎকারটি তাই নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।






