‘কর্জ’ নামেই ব্যর্থ ৯ সিনেমা

চার দশকে একই শব্দে তৈরি নয়টি হিন্দি সিনেমাই বক্স অফিসে ব্যর্থ, তবে ১৯৮০ সালের ছবিটি পরে পেয়েছে কাল্ট মর্যাদা।

টুইট প্রতিবেদক: হিন্দি সিনেমায় ছবির নাম নিয়ে কুসংস্কার নতুন কিছু নয়। কোনো অক্ষর বা শব্দ সাফল্য এনে দিয়েছে মনে করে নির্মাতারা তা বারবার ব্যবহার করেছেন। আবার কোনো নামকে অশুভ মনে করে এড়িয়ে চলার ঘটনাও আছে। তবে ‘কর্জ’ শব্দটি ঘিরে ঘটেছে ব্যতিক্রমী এক কাকতাল। চার দশকে এই শব্দটি পুরো নাম বা নামের অংশ হিসেবে ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে অন্তত নয়টি সিনেমা। আশ্চর্যের বিষয়, সব কটিই বাণিষজ্যিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

উর্দু ভাষার ‘কর্জ’ শব্দের অর্থ ঋণ বা ধার। এই শব্দকে শিরোনামে ব্যবহার করে প্রথম আলোচিত সিনেমাটি ছিল সুভাষ ঘাই পরিচালিত ১৯৮০ সালের ‘কর্জ’। ঋষি কাপুর, সিমি গারেওয়াল, টিনা মুনিম ও প্রাণ অভিনীত ছবিটির গল্প ছিল পুনর্জন্ম ও প্রতিশোধকে ঘিরে।

মুক্তির সময় প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি সিনেমাটি। একই সময়ে ফিরোজ খানের ‘কুরবানি’ দর্শকদের মধ্যে বেশি সাড়া ফেলায় ‘কর্জ’ ব্যবসায় পিছিয়ে পড়ে। ভারতে ছবিটির আয় ছিল প্রায় চার কোটি রুপি।

তবে সময়ের সঙ্গে ছবিটির অবস্থান বদলে যায়। বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হলেও পরে এটি বলিউডের জনপ্রিয় কাল্ট সিনেমার মর্যাদা পায়। বিশেষ করে ছবিটির গানগুলো দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় রয়েছে।

২০০৮ সালে একই নামে আবার ব্যর্থতা

১৯৮০ সালের ছবির ২৮ বছর পর ২০০৮ সালে ‘কর্জ’–এর পুনর্নির্মাণ করেন সতীশ কৌশিক। হিমেশ রেশমিয়া, উর্মিলা মাতোন্ডকর, ড্যানি ডেনজংপা, ডিনো মোরিয়া ও শ্বেতা কুমার অভিনীত ছবিটি প্রায় ২৪ কোটি রুপি ব্যয়ে তৈরি হলেও আয় করে প্রায় ১৬ কোটি রুপি।

ছবিটির ব্যর্থতা অভিনয়শিল্পীদের ক্যারিয়ারেও প্রভাব ফেলে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে শ্বেতা কুমারের জন্য এটি ছিল বড় পর্দায় অভিষেকের ছবি। এরপর তিনি হিন্দি সিনেমায় উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পারেননি।

এর আগে ২০০২ সালে সানি দেওল, সুনীল শেঠি ও শিল্পা শেঠিকে নিয়ে নির্মিত হয়েছিল ‘কর্জ: দ্য বার্ডেন অব ট্রুথ’। বড় তারকা থাকার পরও ছবিটি দর্শক টানতে পারেনি। ভারতীয় বক্স অফিসে এর আয় ছিল প্রায় ১৫ কোটি রুপি।

‘কর্জ’ শব্দটির ব্যবহার অবশ্য এখানেই থামেনি। ১৯৮৮ সালে মুক্তি পায় ‘কর্জ তেরে খুন কা’। এরপর ১৯৯০ সালে ‘দুধ কা কর্জ’ ও ‘পেয়ার কা কর্জ’, ১৯৯১ সালে ‘কর্জ চুকানা হ্যায়’ ও ‘মহান কর্জ’ মুক্তি পায়। ২০১৬ সালেও আবার তৈরি হয় ‘দুধ কা কর্জ’।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ছয়টি সিনেমার কোনোটিই ভারতীয় বক্স অফিসে পাঁচ কোটি রুপির আয় ছাড়াতে পারেনি। অর্থাৎ ১৯৮০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ‘কর্জ’ শব্দ ব্যবহার করে তৈরি হওয়া অন্তত নয়টি সিনেমার কোনোটিই বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি।

তবে এই ধারাবাহিক ব্যর্থতাকে সিনেমার নামের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত করার মতো কোনো প্রমাণ নেই। বরং চলচ্চিত্রের নাম, গল্প, নির্মাণ, অভিনয়, মুক্তির সময় ও দর্শকের গ্রহণযোগ্যতাসহ নানা বিষয় একটি ছবির ব্যবসায়িক ফলাফলে প্রভাব ফেলে। তাই ‘কর্জ’–এর ক্ষেত্রে ঘটনাটিকে মূলত অদ্ভুত এক কাকতাল হিসেবেই দেখা যায়।

২০১৬ সালের পর হিন্দি সিনেমায় ‘কর্জ’ শব্দকে কেন্দ্র করে উল্লেখযোগ্য নতুন কোনো ছবি দেখা যায়নি। ফলে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলা এই অদ্ভুত নাম-ব্যর্থতার ধারাও আপাতত থেমে আছে।