মার্কিন সেনামুক্ত ইরাককে স্বাগত ইরানের

সার্বভৌমত্ব দিবস উদযাপন, তবে মিলিশিয়া ও আইএস নিয়ে রয়ে গেছে নিরাপত্তা শঙ্কা
টুইট প্রতিবেদক: ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট সেনারা ইরাকের শেষ ঘাঁটিগুলো ছেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক উপস্থিতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।
২০২৪ সালে বাগদাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া চুক্তির ভিত্তিতে ধাপে ধাপে এই প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়। ২০১৪ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর ইরাকে আবার মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভের আওতায় ১২ বছর ধরে চলা আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশনও শেষ হলো। ২০০৩ সালের পর ইরাকে ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান। তেহরান এটিকে আঞ্চলিক ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ সাফল্য হিসেবে দেখছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের উপপ্রধান আমির হায়াত মোঘাদ্দাম বলেছেন, মার্কিন বাহিনী ইরাক ও অঞ্চল থেকে চলে গেলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে। কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একসময় অঞ্চল ছেড়ে যাবে—এমন মন্তব্য করেছেন।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদি ১ অক্টোবরকে ‘সার্বভৌমত্ব দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। এ উপলক্ষে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসূচি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরাকি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি সামরিক উপস্থিতির অবসান দেশটির সার্বভৌমত্বকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে।
তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকের সামনে নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব এবং ইসলামিক স্টেটের পুনরুত্থানের আশঙ্কা নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। মার্কিন সেনাদের গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও অন্যান্য সহায়তা না থাকায় আইএসের সুপ্ত সেলগুলো সুযোগ নিতে পারে বলে কয়েকজন ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন।
ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াগুলোর নিরস্ত্রীকরণ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাদের অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সময়সীমা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে সাম্প্রতিক হামলার উৎস ইরাকের ভূখণ্ড বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে হামলাকারীদের পরিচয় ও সরাসরি দায় নিয়ে সব তথ্য এখনো এককভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। ইরাক সরকার ঘটনাটি তদন্ত করছে।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরও বাগদাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময় অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছে উভয় পক্ষ। ফলে বিদেশি সেনামুক্ত নতুন পর্যায়ে ইরাকের মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে—একদিকে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা, অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও ইসলামিক স্টেটের ঝুঁকি মোকাবিলা করে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষা করা।
সূত্র: রয়টার্স, ইরাক সরকারের সরকারি ওয়েবসাইট ও NINA।







