শৈশবের সেই শিশু এখন বলিউডের আলোচিত নায়িকা

মৌনী রায়ের জন্মদিনে শৈশব থেকে তারকা হওয়ার গল্প টেলিভিশনের ‘নাগিন’ থেকে বড় পর্দা, অভিনয়-নাচ ও ব্যবসায় গড়ে তুলেছেন নিজের পরিচিতি।
টুইট প্রতিবেদক: শৈশবের ছবির সেই ছোট্ট মেয়েটিই আজ বলিউডের পরিচিত মুখ। তিনি মৌনী রায়। ১৯৮৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী আজ ৪১ বছরে পা দিয়েছেন।
অভিনয়জীবনের শুরু টেলিভিশনে হলেও ‘নাগিন’ ধারাবাহিকের সাফল্য তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। পরে বড় পর্দায়ও নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি।
মৌনীর অভিনয়জীবনের শুরু অবশ্য নায়িকা হিসেবে নয়। দিল্লির মিরান্ডা হাউসে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। পরে গণযোগাযোগ নিয়েও পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। প্রায় ১৯ বছর আগে গ্রীষ্মকালীন কাজের উদ্দেশ্যে মুম্বাইয়ে গেলেও সেখানেই বদলে যায় তাঁর জীবনের গতিপথ।
এর আগে ২০০৪ সালের ‘রান’ সিনেমায় পেছনের সারির নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করেছিলেন মৌনী। ২০০৬ সালে একতা কাপুরের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কিউকি সাস ভি কভি বহু থি’তে কৃষ্ণ তুলসী চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনয়জগতে পা রাখেন তিনি।
এরপর ‘দেবো কে দেব মহাদেব’-এ সতীর চরিত্রে অভিনয় করে আরও বড় পরিচিতি পান মৌনী। মোহিত রায়নার সঙ্গে তাঁর জুটি দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়। ‘জুনুন—আইসি নফরত তো ক্যায়সা ইশক’ ধারাবাহিকেও অভিনয় করেন তিনি। পাশাপাশি নাচের দক্ষতারও পরিচয় দেন ‘ঝলক দিখলা যা’ অনুষ্ঠানে।
তবে ২০১৫ সালের ‘নাগিন’ ধারাবাহিকই মৌনীর ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনে। অতিপ্রাকৃত কাহিনির এই ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করে। পরে ‘নাগিন ২’-এও অভিনয় করেন তিনি। দীর্ঘ সময় দর্শকের কাছে ‘নাগিন’ চরিত্রের সঙ্গেই তাঁর পরিচিতি জড়িয়ে ছিল।
বড় পর্দায় মৌনীর অভিষেক হয় ২০১৮ সালে ‘গোল্ড’ সিনেমার মাধ্যমে। অক্ষয় কুমারের বিপরীতে অভিনয় করা ছবিটিতে মোনোবিনা দাস চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। এরপর ‘রোমিও আকবর ওয়াল্টার’, ‘মেড ইন চায়না’, ‘লন্ডন কনফিডেনশিয়াল’, ‘ভেলে’ ও ‘দাবাং ৩’সহ বিভিন্ন সিনেমা ও প্রকল্পে কাজ করেন তিনি।
তবে ২০২২ সালের ‘ব্রহ্মাস্ত্র: পার্ট ওয়ান—শিবা’ মৌনীর চলচ্চিত্রজীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাট অভিনীত ছবিতে খল চরিত্র জুনুনে অভিনয় করেন তিনি। চরিত্রটির জন্য প্রশংসা পাওয়ার পাশাপাশি আইফা পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কারও পান মৌনী। ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের মনোনয়নও আসে তাঁর ঝুলিতে।
অভিনয়ের পাশাপাশি মৌনীর ব্যক্তিজীবনও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। ২০২২ সালের ২৭ জানুয়ারি দুবাইভিত্তিক ব্যবসায়ী সুরজ নাম্বিয়ারকে গোয়ায় বিয়ে করেন তিনি। বিয়েতে বাঙালি ও মালয়ালি—দুই সংস্কৃতির আয়োজন ছিল।
তবে চার বছরের মাথায় তাঁদের দাম্পত্যে ভাঙন দেখা দেয়। ২০২৬ সালের মে মাসে যৌথ বিবৃতিতে মৌনী ও সুরজ জানান, তাঁরা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজেদের ব্যক্তিগত বিষয় ব্যক্তিগতভাবেই সামলানোর কথা জানিয়ে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে মনগড়া ও অতিরঞ্জিত তথ্য না ছড়ানোর অনুরোধও করেন তাঁরা।
বিচ্ছেদের পর অভিনেতা অর্জুন বিজলানির সঙ্গে মৌনীর বন্ধুত্ব নিয়েও নানা জল্পনা ছড়ায়। তবে অর্জুন বিষয়টিকে বন্ধুত্বের বাইরে দেখার বিরোধিতা করেন এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে প্রেমের সম্পর্ক হিসেবে উপস্থাপন না করার আহ্বান জানান।
অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়ও যুক্ত হয়েছেন মৌনী। সুরজের সঙ্গে ২০২২ সালে একটি শিক্ষামূলক উদ্যোগ এবং ২০২৩ সালে মুম্বাইয়ে একটি রেস্তোরাঁ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। বিজ্ঞাপন, অনুষ্ঠান, সংগীতচিত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা থেকেও তাঁর আয় রয়েছে বলে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মৌনী রায়ের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬৫ কোটি ভারতীয় রুপি। তবে এসব হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিনয় ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞাপন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও তাঁর আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
শৈশবের নৃত্যশিল্পী থেকে টেলিভিশনের পরিচিত মুখ, এরপর ‘নাগিন’-এর জনপ্রিয়তা পেরিয়ে বলিউডের বড় পর্দায় জায়গা করে নেওয়া—মৌনী রায়ের ক্যারিয়ার তাই একাধিক বাঁকের গল্প। ব্যক্তিজীবনের নানা আলোচনার মধ্যেও অভিনয়, নাচ ও ব্যবসায় নিজের পরিচিতি ধরে রেখেছেন তিনি।





