জার্মানির অপারচুনিটি কার্ডে চাকরি খোঁজার সুযোগ

নির্দিষ্ট চাকরির প্রস্তাব ছাড়াই জার্মানিতে গিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ, যোগ্যতার পাশাপাশি ভাষা ও আর্থিক সক্ষমতাও জরুরি।

টুইট প্রতিবেদক: দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ইউরোপের অন্যতম সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার জার্মানি। দেশটিতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা থাকায় বিদেশি পেশাজীবীদের জন্যও তৈরি হচ্ছে কাজের সুযোগ। নির্দিষ্ট চাকরির প্রস্তাব না থাকলেও জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার বৈধ একটি পথ হলো ‘অপারচুনিটি কার্ড’, যার জার্মান নাম ‘চান্সেনকার্টে’।

এই ব্যবস্থার আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় মুক্তবাণিজ্য সংস্থার বাইরের দেশের যোগ্য নাগরিকরা জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খুঁজতে পারেন। আবেদন করার সময় জার্মান কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নির্দিষ্ট চাকরির প্রস্তাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়।

সর্বোচ্চ এক বছর থাকার সুযোগ

অপারচুনিটি কার্ড সাধারণত সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য দেওয়া হয়। এ সময় আবেদনকারী জার্মানিতে থেকে উপযুক্ত চাকরি খুঁজতে পারেন। পাশাপাশি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে সম্ভাব্য নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ পরীক্ষামূলক কাজ করার সুযোগও থাকতে পারে। ফলে বিদেশ থেকে চাকরির সন্ধানে আসা দক্ষ কর্মীদের জন্য এটি সরাসরি জার্মান শ্রমবাজারে প্রবেশের একটি পথ তৈরি করে।

কারা আবেদন করতে পারবেন

অপারচুনিটি কার্ড পাওয়ার প্রধানত দুটি পথ রয়েছে। প্রথমত, কারও বিদেশি পেশাগত বা একাডেমিক যোগ্যতা জার্মানিতে স্বীকৃত হলে তিনি দক্ষ কর্মী হিসেবে আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় না।

দ্বিতীয় পথ হলো পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর স্বীকৃত পেশাগত বা একাডেমিক যোগ্যতা থাকতে হবে। পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতাসহ নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করে অন্তত ছয় পয়েন্ট অর্জন করতে হয়।

সাধারণভাবে জার্মান ভাষায় অন্তত এ-১ অথবা ইংরেজি ভাষায় বি-২ পর্যায়ের দক্ষতা প্রয়োজন হতে পারে। তবে শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা বা ভাষাজ্ঞান থাকলেই হবে না; আবেদনের ক্ষেত্রে অন্যান্য নির্ধারিত শর্তও পূরণ করতে হবে।

নিজের খরচ চালানোর সক্ষমতা দেখাতে হবে

জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের সক্ষমতার প্রমাণও দিতে হয়। ২০২৬ সালের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে প্রতি মাসে ন্যূনতম ১ হাজার ৯১ ইউরো নিট অর্থের সংস্থান দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে।

অর্থাৎ, আবেদনকারীর যোগ্যতা, ভাষাজ্ঞান ও চাকরির সম্ভাবনার পাশাপাশি জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের ব্যয় বহনের আর্থিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

চাকরি পাওয়ার পর কী হবে

অপারচুনিটি কার্ড নিয়ে জার্মানিতে যাওয়ার পর কোনো যোগ্য চাকরি পাওয়া গেলে পরবর্তী ধাপে উপযুক্ত কর্মসংস্থান বা আবাসন অনুমতির জন্য আবেদন করা যায়।

অর্থাৎ, এই কার্ড নিজেই স্থায়ী পূর্ণকালীন চাকরির অনুমতি নয়। চাকরি পাওয়ার পর কর্মসংস্থানের ধরন ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপযুক্ত আবাসন অনুমতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরির প্রস্তাব পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীল কার্ড বা প্রযোজ্য অন্য আবাসন অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন।

শুধু বিদেশে পড়াশোনা নয়, ভাবতে হবে ভবিষ্যৎ নিয়েও

বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনায় শুধু কোন দেশে বা কোন বিষয়ে পড়াশোনা করা হবে, সেটিই বিবেচনার বিষয় নয়। পড়াশোনা শেষ করার পর সেখানে কাজের সুযোগ, পেশাগত বিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সম্ভাবনাও আগে থেকে মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে পড়াশোনা যদি কারও প্রকৃত লক্ষ্য হয়, তবে সেই লক্ষ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কিন্তু শুধু বিদেশে যাওয়ার পথ হিসেবে পড়াশোনাকে বেছে নিলে পরবর্তী কর্মসংস্থানের সুযোগও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

কারণ কোনো দেশে পড়াশোনা শেষ করার পর কাজের সুযোগ সীমিত হলে দীর্ঘমেয়াদে সেখানে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পরিকল্পনা জটিল হয়ে যেতে পারে। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা, আর্থিক সামর্থ্য এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা যাচাই করা জরুরি।

জার্মানির পাশাপাশি রয়েছে অন্য পথও

দক্ষ কর্মীদের জন্য জার্মানির পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাতেও বিভিন্ন অভিবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। এসব দেশের নির্দিষ্ট কর্মীভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও ভাষাগত দক্ষতা থাকা পেশাজীবীরা বিদেশে কাজ ও দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ খুঁজতে পারেন।

তবে প্রতিটি দেশের অভিবাসন ও ভিসা ব্যবস্থার শর্ত আলাদা। বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, ভাষাগত দক্ষতা এবং আর্থিক সক্ষমতার মতো বিষয়ও আবেদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তাই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি নিয়ম, যোগ্যতার শর্ত, ভাষাগত প্রয়োজনীয়তা, আর্থিক সংস্থান এবং আবাসন অনুমতির বিধান সরাসরি যাচাই করেই আবেদন করা উচিত।