রাজশাহী মেডিকেলে ৯ মাসে ডেঙ্গুতে ভর্তি ৯০১, মৃত্যু ১৩

এক সপ্তাহেই নতুন রোগী ১৯৭, মৃত্যু পাঁচ; ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮৬ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরের নয় মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯০১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৮০২ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৮৬ জন।

হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভর্তি রোগীদের বড় অংশই প্রাপ্তবয়স্ক। মোট ৯০১ জন রোগীর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ৮৩৩ জন, যা প্রায় ৯২ দশমিক ৫ শতাংশ। শিশু রোগী ছিলেন ৬৮ জন, অর্থাৎ প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ছিল ৬১০ জন এবং নারী ২২৩ জন। অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের প্রায় ৭৩ শতাংশ পুরুষ। তবে শুধু হাসপাতালের ভর্তি-তথ্যের ভিত্তিতে পুরুষদের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার প্রকৃত ঝুঁকি নারীদের তুলনায় বেশি—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া যায় না। চলাফেরা, কর্মস্থলে অবস্থান, মশার সংস্পর্শ এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও আচরণগত কারণ এ ব্যবধানের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

চলতি বছরের নয় মাসে ৯০১ জন রোগীর মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট ভর্তি রোগীর তুলনায় মৃত্যুর হার প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ। মৃতদের বেশির ভাগের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুজনিত গুরুতর জটিলতা, বিশেষ করে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আগস্টে রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাসের শুরুতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন আটজন। ৩০ আগস্ট এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ জনে। অর্থাৎ এক মাসে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৪২ জন বা ৫২৫ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টের ২৯ দিনে ২২১ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। এ সময়ে ১৭৬ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগেও আগস্টে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ছিল উল্লেখযোগ্য। বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬৪৩ জন, সিরাজগঞ্জে ৩৬৩ জন, বগুড়ায় ১৬৫ জন, নাটোরে ৫৬ জন, পাবনায় ৪২ জন, নওগাঁয় ৪১ জন, রাজশাহীতে ২৫ জন এবং জয়পুরহাটে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সেপ্টেম্বরেও রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। ১৯ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত দিনে নতুন করে ১৯৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ১৯৩ জন চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের।

সাত দিনের হিসাবে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০ জন, ২০ সেপ্টেম্বর ৩১ জন, ২১ সেপ্টেম্বর ২৬ জন, ২২ সেপ্টেম্বর ২৯ জন, ২৩ সেপ্টেম্বর ২৪ জন, ২৪ সেপ্টেম্বর ৪২ জন এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ২৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হন। এর মধ্যে ২৪ সেপ্টেম্বর এক দিনে সর্বোচ্চ ৪২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন যথাক্রমে ১২, ১৮, ২৭, ২৫, ২৫, ৪৬ ও ৪০ জন। ফলে এক সপ্তাহে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ১৯৩ জন।

এই সময়ে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তানোরের মো. আনোয়ার মন্ডল, বাঘমারার ১৬ বছর বয়সী সাথী রাণী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষক আব্দুল করিম এবং রাজশাহীর বোয়ালিয়ার চাকরিজীবী মোসা. নাসরিন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম উল্লেখ করা হয়েছে।

২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রামেক হাসপাতালে ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১০৭ জনে পৌঁছেছিল। পরবর্তী তিন দিনে নতুন রোগী ভর্তি ও সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নেওয়ার ধারাবাহিকতায় এ সংখ্যা কমে ৮৬ জনে নামে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, শুক্রবার গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বিপরীতে ৪০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।