৩৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা, দ্বিতীয় দফার কর্মসূচি শুরু

প্রথম দফায় টিকার বাইরে থাকা শিশুদের সুরক্ষায় ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম
টুইট ডেস্ক: দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে প্রথম দফায় টিকার আওতার বাইরে থাকা প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে হাম ও রুবেলার টিকার আওতায় আনতে দ্বিতীয় দফার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তির টিএনটি খেলার মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর নিয়মিত চার বছর পরপর পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও হাম ও রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ ছিল। ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এর প্রভাব এখন দেশকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, হাম থেকে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে বিশেষ করে পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। এতে মৃত্যুঝুঁকিও বেড়ে যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকদের পাশাপাশি সমাজের সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন মহামারি ও সংকটের সময়ে দেশের চিকিৎসকেরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনাভাইরাস মহামারির সময়ও চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের কারণে বাংলাদেশে মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে কম ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। হামসহ বিভিন্ন মহামারি মোকাবিলায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য পরিচালিত বিশেষ হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। পরে ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে একই বয়সী প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ শিশু অংশ নেয়। এ দুই কর্মসূচির তথ্য তুলনা করে প্রায় ৪৩ লাখ শিশু প্রথম দফার টিকাদানের বাইরে থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়।
তাদের মধ্যে প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে দ্বিতীয় দফার বিশেষ কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের টিকাসুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।






