রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান তারেক রহমান

নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর
টুইট ডেস্ক: রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঙ্গলবার পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ। বৈঠক দুটিতে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বোঝা চাপিয়ে রাখার মধ্যে নয়; বরং রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মধ্যেই এর সমাধান নিহিত।
রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে মিয়ানমারে এমন পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যেখানে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নিজেদের ভূমিতে ফিরে যেতে পারেন।
আলোচনায় বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত প্রভাবের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখলেই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
বারহাম সালেহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠকেও রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর সংকটটি দীর্ঘমেয়াদি রূপ নেয়। কয়েক দফা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা ও অনুকূল পরিবেশের অভাবে তা কার্যকরভাবে এগোয়নি। ফলে কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান বাংলাদেশের জন্য ক্রমবর্ধমান মানবিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চাপ তৈরি করছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসূচি অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলাবিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়সংগত পরিবর্তন নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘে এটিই হবে তার প্রথম ভাষণ। প্রথা অনুযায়ী তিনি বাংলায় বক্তব্য দেবেন।





