ইউএনজিএতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ, বিশ্বজুড়ে নজর ট্রাম্প বৈঠকে

ট্রাম্পের অভ্যর্থনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি। ওয়াল স্ট্রিট, মেটা ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের এই সফরকে ঘিরে জাতিসংঘের বহুপাক্ষিক কূটনীতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্ক সফরের অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাৎ। ২২ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে আলাদা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা সফরের শুরুতে নিশ্চিত ছিল না।
অর্থনৈতিক কূটনীতিও সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের ২০২৬ সালের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ১৯ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক হার রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ হারের সুযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ও সেবার বাজারপ্রবেশ সহজ করতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক বাধা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে।
নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকও রয়েছে। ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ, উৎপাদন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলে ধরার কথা রয়েছে। মেটাসহ আন্তর্জাতিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।
এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক। জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সফরে দুই দেশ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা করে।
ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য একই সঙ্গে বাণিজ্যিক স্বার্থ ও বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বাণিজ্যচুক্তির বাস্তবায়ন, রপ্তানি সুবিধা ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ সফরের অর্থনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
তবে সফরের সাফল্য কেবল উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ওপর নির্ভর করবে না; বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় কতটা বাস্তব অগ্রগতি হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। দ্য ডিপ্লোম্যাট-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক এবং দৃশ্যমান অর্থনৈতিক অর্জনকে সফরের সম্ভাব্য ফলাফলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘে ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটেও আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা থাকবে ঢাকার। ২৩ সেপ্টেম্বরের একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানাবে। পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়ও তুলে ধরবে বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফর বাংলাদেশের জন্য একই সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন, মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি চীনের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখাই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।






