রাজশাহী কলেজে একাদশের ভর্তি আজ র‌বিবার থেকে

রাজশাহী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে চূড়ান্ত ভর্তি শুরু। ২০-২২ সেপ্টেম্বর ফি জমা ও কাগজপত্র দাখিল, ২৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরু।

নিজস্ব প্রতি‌নি‌ধি, রাজশাহী: রাজশাহী কলেজে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। চূড়ান্ত মেধা তালিকায় সাধারণ ও বিভিন্ন কোটায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া আজ র‌বিবার ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভর্তি কার্যক্রম সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড (DBBL) মোবাইল ব্যাংকিং বা রকেট অ্যাপের মাধ্যমে ভর্তি ফি জমা দিয়ে Confirmation Slip সংগ্রহ করতে হবে। এরপর নির্ধারিত তারিখে কলেজে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। সময়মতো ভর্তি সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে। কোনো শিক্ষার্থী মিথ্যা তথ্য দিলে কর্তৃপক্ষ তার ভর্তি বাতিলের পূর্ণ ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।

ভর্তি ফি ও সময়সূচি

বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ২০ টাকা। এর মধ্যে ২০ টাকা অনলাইন ও DBBL সার্ভিস চার্জ অন্তর্ভুক্ত।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আজ ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত DBBL-এর মাধ্যমে ফি জমা দিয়ে Confirmation Slip-সহ কাগজপত্র কলেজে জমা দেবেন। কাগজপত্র জমাদানের সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এবং স্থান কলেজ মিলনায়তন।

কোটাভিত্তিক ভর্তি

শিক্ষা কোটা (EQ) ও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় (FQ) নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় কলেজে উপস্থিত হতে হবে। কোটা সম্পর্কিত মূল প্রমাণপত্র যাচাইয়ের পর তাদের একটি পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে। এরপর তারা ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

মুক্তিযোদ্ধা কোটার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত কাগজপত্র জমা দিতে হবে:

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত মুক্তিযোদ্ধা সনদের ফটোকপি; মুক্তিযোদ্ধার জাতীয় পরিচয়পত্র ও এসএসসি সনদের ফটোকপি; পিতা/মাতা মুক্তিযোদ্ধা হলে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও এসএসসি সনদ; অনলাইন থেকে ডাউনলোডকৃত মুক্তিযোদ্ধা বিস্তারিত তথ্যের প্রিন্ট কপি
শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন সনদ; গেজেটে নাম উল্লেখ থাকলে তার ফটোকপি।

অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়া

শিক্ষার্থীরা রাজশাহী কলেজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট http://rc.gov.bd-এ গিয়ে ‘ভর্তি/ফরম পূরণ’ বাটনে ক্লিক করে অথবা EasyCollegeMate লিংকের মাধ্যমে ফরম পূরণ করতে পারবেন। ফরম পূরণের পর DBBL মোবাইল অ্যাকাউন্ট বা রকেট অ্যাপের মাধ্যমে পেমেন্ট করলেই ভর্তি সম্পন্ন হবে। পেমেন্টের পর মোবাইলে কনফার্মেশন মেসেজ আসবে এবং Admission Confirmation Slip ও Student Admission Form ডাউনলোড করা যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে DBBL মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পেমেন্টের নির্ধারিত পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে এবং রকেট অ্যাপ ব্যবহার করলে পেমেন্ট আরও সহজ হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে শুধুমাত্র একটি ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্টের ব্যবস্থা নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্টের সুযোগ রাখা হলে প্রক্রিয়াটি আরও সহজ ও সুবিধাজনক হতো। অনেকের দাবি, এমটিবির ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের অত্যাধুনিক প্ল্যাটফর্মও এতে যুক্ত করা যেতে পারে। অথবা যেগু‌লো ব‌্যাংকে একই ধর‌নের ফাস্ট ডি‌জিটাল ব‌্যাংকিং চালু আছে।

জমা দিতে হবে যেসব কাগজপত্র

১. Confirmation Slip-এর প্রিন্ট কপি
২. অনলাইনে পূরণকৃত ফর্মের প্রিন্ট কপি
৩. এসএসসি মূল ট্রান্সক্রিপ্ট বা অনলাইন নম্বরপত্র
৪. এসএসসি মূল প্রশংসাপত্র
৫. এসএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রের ফটোকপি
৬. সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (দাগবিহীন)
৭. কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মূল কাগজপত্র ও ফটোকপি
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাগজপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হলে ভর্তি বাতিল হয়ে যাবে।

ক্লাস শুরু ও পোশাক

একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে। শিক্ষার্থীদের কলেজ কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত পোশাক পরিধান করে ক্লাসে উপস্থিত হতে হবে। পোশাকের নমুনা কলেজের ওয়েবসাইট https://rc.gov.bd/hsc-corner/ এবং ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সকলকে সময়মতো ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন। কোনো ধরনের জটিলতা এড়াতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

কোটা প্রশ্ন? সংস্কার আন্দোলন থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান

২০২৪ সালের এই আন্দোলন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি শুরু হয়েছিল সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে, পরে সরকারের দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের কারণে পূর্ণাঙ্গ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এর ফলে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে।

২০১৮ সালে ছাত্র আন্দোলনের চাপে সরকার সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে। তখন মোট কোটা ছিল প্রায় ৫৬%, যার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছিল ৩০%।

২০২১ সালে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা এই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন।

৫ জুন ২০২৪ — হাইকোর্ট সেই ২০১৮ সালের পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণা করে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে। এর সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের মূল স্লোগান ছিল — “কোটা না, মেধা চাই”।