স্থানীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবি: জামায়াত আমির

প্রবাসে থাকলেও ভোটার হিসেবে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না: শফিকুর রহমান

টুইট ডেস্ক: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে ‘সিন্ডিকেট ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার : বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একজন নাগরিক দেশে থাকুন কিংবা প্রবাসে, ভোটার হলে তাঁর ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। প্রবাসে থাকা কোনো নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা হবে জুলুম ও অবিচার।

তিনি বলেন, বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাদ দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। প্রবাসে থাকা তাদের কোনো অপরাধ নয়। তারা যেখানেই থাকুক, জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রবাসীদের অধিকার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, শুধু তাদের ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের নাগরিক অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। প্রবাসীদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে তাদের প্রতি সেই সম্মান দেখানো হয় না।

সেমিনারে শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রবাসের শ্রমবাজারসহ কোনো ক্ষেত্রেই সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব থাকা উচিত নয়। তার দাবি, আগের সরকারের সময় গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট এখনো বহাল রয়েছে। সরকার এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের বৈধ ভিসাধারী অনেক নাগরিক বিভিন্ন দেশে পৌঁছানোর পরও কোনো কারণ না জানিয়ে ফেরত পাঠানোর ঘটনা ঘটছে। এতে শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চাকরির অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে না, বরং বাংলাদেশের নাগরিকদেরও অপমানিত হতে হচ্ছে।

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের সাত দফা দাবি রয়েছে এবং এসব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না তারা।