স্থানীয় সরকার নির্বাচন মে পর্যন্ত পিছানোর শঙ্কা

বার্ষিক পরীক্ষা, রমজান ও এসএসসি পরীক্ষার কারণে নভেম্বরের ভোট নিয়ে অনিশ্চয়তা; আজ আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সময়সূচি নিয়ে আলোচনা

টুইট ডেস্ক: আগামী ১২ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিল নির্বাচন কমিশন। তবে বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা, রমজান, ঈদুল ফিতর এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময় বিবেচনায় আগামী মে মাসের আগে নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নির্ধারণে আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, স্থানীয় সরকার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা নিজেদের প্রস্তুতি ও মতামত তুলে ধরবেন।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে শুরু হয়ে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে শেষ হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, শুধু ভোটের দিন পরীক্ষা না থাকলেই হবে না, নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ভোটকেন্দ্র পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

এরপর আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু এবং ১০ মার্চ ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঈদের পর ১৪ মার্চ থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা। ফলে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের বড় একটি অংশ নির্বাচন আয়োজনের জন্য জটিল হয়ে উঠতে পারে।

এ কারণে আগামী মে মাসের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনা কম বলে সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে। তবে মে মাসেই নির্বাচন হবে—এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আন্তমন্ত্রণালয় সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সাত ধাপের সম্ভাব্য সময়সূচি জানিয়েছিলেন। প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর এবং পরবর্তী ধাপগুলোতে আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২২ এপ্রিল ও ২৭ মে ভোটের সম্ভাব্য তারিখ রাখা হয়েছিল।

তবে এই সময়সূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আগে আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানায়, ঘোষিত তারিখগুলো একেবারেই প্রাথমিক। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে নানা প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দ্রুত সুস্পষ্ট ও সময়বদ্ধ নির্বাচনী রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।

দেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮০। এসব ইউনিয়নে সর্বশেষ বড় পরিসরে নির্বাচন হয় ২০২১ ও ২০২২ সালে। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন হয় ২০২৪ সালে এবং জেলা পরিষদের নির্বাচন হয় ২০২২ সালের অক্টোবরে। অনেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বর্তমানে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্বাচন পিছিয়ে গেলে মেয়াদ শেষ হওয়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পেতে মানুষের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে।