শিক্ষার মানোন্নয়নে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কঠোর নির্দেশনা

রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক-স্টাফদের মতবিনিময়ে ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতায় বিশেষ গুরুত্ব।
নিজস্ব প্রতিনিধি: শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। একই সঙ্গে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ঐতিহ্য ও সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুরের মিলনায়তনে শিক্ষক ও স্টাফদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মোজাম্মেল হক, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও স্টাফরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিআইজি বলেন, শিক্ষকতা শুধু পেশা নয়, মানুষ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই শিক্ষকদের নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা, পেশাগত উৎকর্ষ ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ভুল-ত্রুটি সংশোধনে সহানুভূতি, কাউন্সেলিং ও যথাযথ দিকনির্দেশনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান জানান ডিআইজি। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিক্ষক-স্টাফসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানের আয়, অনুদান ও বেতন ব্যাংক হিসাবে পরিচালনা এবং ব্যয় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে প্রতি বছর নিয়মিত অডিট এবং অডিটের সুপারিশ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন।
শিক্ষাঙ্গনকে নিরাপদ, নৈতিক ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি তৈরির আহ্বান জানান ডিআইজি।
শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক জ্ঞানচর্চা ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি। কম্পিউটার ব্যবহার, মাইক্রোসফট এক্সেল, টাইপিং ও মৌলিক ইংরেজি দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি চিন্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নতুন ক্যাম্পাস, কলেজ শাখা, ইংরেজি ভার্সন এবং শিক্ষার্থীদের চাহিদাভিত্তিক নতুন কার্যক্রম চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের কথা জানান ডিআইজি।
তিনি বলেন, বর্তমান সুনাম ও অর্জনকে কাজে লাগিয়ে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থার একটি আধুনিক, মানসম্মত ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।
সভায় প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম, শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।







