ড্রোন ধ্বংসে রাশিয়ার নতুন চমক, মিসরের এয়ারশোতে ‘বিজন’

বিজন কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা থেকে প্যান্টসির-এসএমডি-ই—আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে রাশিয়ার নতুন সরঞ্জাম প্রদর্শন।
বিশ্ব ডেস্ক: মিসরে শুরু হওয়া এল আলামেইন আন্তর্জাতিক এয়ারশো ২০২৬-এ নতুন ও উন্নত সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করছে রাশিয়া। ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় এ প্রদর্শনীতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ও হেলিকপ্টার থেকে ব্যবহারের উপযোগী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায়।
রাশিয়ার প্রদর্শিত নতুন ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিজন (টিকেবি-১১৬৭) কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা। এটি রাশিয়ার জুবর ব্যবস্থার রপ্তানিযোগ্য সংস্করণ। ছোট ও নিচু উচ্চতায় উড়ন্ত ড্রোন শনাক্ত ও অনুসরণ করতে এতে রাডার এবং তড়িৎ-দৃশ্যমান ও অন্যান্য সেন্সর ব্যবহার করা হয়। লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে এতে ৭ দশমিক ৬২ মিলিমিটার পিকেটি মেশিনগান ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। অবকাঠামো সুরক্ষায় এটি স্বতন্ত্রভাবে অথবা অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে ব্যবহারের উপযোগী। আন্তর্জাতিক কোনো প্রদর্শনীতে এ ব্যবস্থাটি এবারই প্রথম দেখানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রদর্শনীতে রয়েছে এলএমইউআর-৩০৫ই বা ইজদেলিয়ে-৩০৫ই হালকা বহুমুখী নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র। হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষেপযোগ্য এ ক্ষেপণাস্ত্রটির ওজন প্রায় ১০৫ কেজি এবং ওয়ারহেডের ওজন প্রায় ২৫ কেজি। এর পাল্লা প্রায় ১৪ থেকে ১৫ কিলোমিটার। এতে অপটিক্যাল ও তাপীয় অনুসন্ধান ব্যবস্থা এবং দ্বিমুখী তথ্য সংযোগ রয়েছে। ফলে নিক্ষেপের পরও অপারেটর ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। প্রদর্শনীতে এটি কা-৫২ই হেলিকপ্টারের সঙ্গে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
রাশিয়া মোবাইল এসকেভিপি আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ রাডারও প্রদর্শন করছে। ছোট ড্রোন ও উড়োজাহাজ শনাক্ত এবং অনুসরণের জন্য তৈরি এ কমপ্যাক্ট এস-ব্যান্ড পর্যায়ক্রমিক বিন্যাসের রাডার একাধিক স্টেশনের সঙ্গে নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে কাউন্টার-ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তুসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা সম্ভব।
এ ছাড়া প্রদর্শনীতে রয়েছে প্যান্টসির-এস১এম ও প্যান্টসির-এসএমডি-ই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। প্যান্টসির-এস১এম সংস্করণে আগের ব্যবস্থার তুলনায় ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও কার্যকর উচ্চতা বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে প্যান্টসির-এসএমডি-ই হলো কামানবিহীন ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক সংস্করণ। ড্রোনের বড় ঝাঁক মোকাবিলাকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি এ ব্যবস্থায় ৩০ মিলিমিটার কামানের পরিবর্তে বেশি সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সুযোগ রয়েছে। এতে ১২টি প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র অথবা ৪৮টি ছোট টিকেবি-১০৫৫ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা যায় বলে রুশ পক্ষ জানিয়েছে। স্থির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষায় এ ব্যবস্থা ব্যবহারের উপযোগী।
এয়ারশোতে রাশিয়া সু-৫৭ই যুদ্ধবিমান, কা-৫২ই হেলিকপ্টার, বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও লয়টারিং মিউনিশনসহ আরও সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করছে।
রুশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতাদের জন্য আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার। এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে এসব অঞ্চলে নতুন প্রজন্মের আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করাই রাশিয়ার অন্যতম লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে ধারণা করা যায়।







