আরএমপি-রেঞ্জ সমন্বয় জোরদারে ডিআইজি-কমিশনারের বৈঠক

অপরাধ দমনে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যৌথ অভিযানের একমত। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে ডিআইজি আশিক সাঈদকে সম্মাননা স্মারক

ব‌দিউল আলম লিংকন: রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ও রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যৌথ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো: আশিক সাঈদ ও আরএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে আরএমপি পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো: আশিক সাঈদকে স্বাগত জানান। পরে উভয় কর্মকর্তা রাজশাহী মহানগর ও রেঞ্জ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং পুলিশি কার্যক্রমে পারস্পরিক সমন্বয় আরও কার্যকর করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে আরএমপি ও রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথ অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে আরএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো: আশিক সাঈদকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো: ফারুক হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর)-এর দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, পিপিএম, বিশেষ পুলিশ সুপার (সিটিএসবি)-এর দায়িত্বে থাকা মো: মনিরুল ইসলাম এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র মো: গাজিউর রহমান, পিপিএম।

রাজশাহী মহানগর ও রেঞ্জ পুলিশের মধ্যে এ মতবিনিময় বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে একটি সময়োপযোগী ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মহানগর ও জেলার আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা প্রশাসনিকভাবে পৃথক হলেও অপরাধের ধরন, অপরাধীদের চলাচল এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেক ক্ষেত্রে পরস্পরসম্পর্কিত। ফলে দুই ইউনিটের মধ্যে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বিত পরিকল্পনা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

যৌথ অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপের ফলে সীমান্তবর্তী থানা এলাকা, আন্তঃজেলা অপরাধচক্র, মাদক পাচার, চোরাচালান, সন্ত্রাসী তৎপরতা এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে সমন্বিত সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য দ্রুত যাচাই ও মাঠপর্যায়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে অপরাধীদের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় পালিয়ে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানোর প্রবণতা কমতে পারে।

এ ধরনের সমন্বয় শুধু অভিযানকেন্দ্রিক নয়; বরং জননিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, বড় সমাবেশ ও বিশেষ দিবসের নিরাপত্তা পরিকল্পনাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দায়িত্ব বণ্টন, যোগাযোগব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে অভিন্ন পরিকল্পনা থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হবে।

তবে এ উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে নিয়মিত সমন্বয় সভা, নির্ভরযোগ্য তথ্য বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং অভিযানের পর ফলাফল মূল্যায়নের ওপর। পাশাপাশি আইনানুগ প্রক্রিয়া, মানবাধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। এতে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়বে এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।

সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে রাজশাহী মহানগর ও রেঞ্জ এলাকায় অপরাধ প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।