দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন এড়িয়ে নতুন কূটনৈতিক পথে বাংলাদেশ: জাপানি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার দিকে নজর, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্ব হারাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে ঢাকার পররাষ্ট্রনীতি।
টুইট প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’-তে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ঢাকা।
বিশ্লেষকরা একে বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে দেখছেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে পূর্বের মতো গুরুত্ব না দিয়ে অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
জাপানি সংবাদমাধ্যম নিকেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক দ্রুত সম্প্রসারণ করছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি মক্কা চুক্তিতে সদস্যপদ নেওয়ার দিকে নজর দিয়েছেন। এই চুক্তিটি আগস্ট মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। এতে এক দেশের ওপর সামরিক হামলাকে অন্যদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার ধারা রয়েছে, যা ন্যাটোর মতো যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আদলে তৈরি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কয়েক সপ্তাহ আগেও নয়াদিল্লি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিলতা এবং অন্যান্য কূটনৈতিক বিবেচনায় ঢাকা ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে। বাংলাদেশ ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য না হলেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, তাঁর প্রত্যর্পণ দাবি এবং দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে চাপের মুখে ফেলেছে। এ অবস্থায় ঢাকা পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে। মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে সরকারি মহল ও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ একে ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানা গেছে।
এই কূটনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নতুন দিক নির্দেশ করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।






