রাজশাহীর পদ্মায় এক দশকে দুই শতাধিক মৃত্যু

নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী, লাইফ জ্যাকেটের ঘাটতি ও নজরদারির দুর্বলতায় বাড়ছে প্রাণহানি; দুর্ঘটনার পর তৎপরতা, প্রতিরোধে স্থায়ী উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর পদ্মা একদিকে নগরবাসীর বিনোদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, অন্যদিকে ক্রমেই হয়ে উঠছে মৃত্যুর নীরব ফাঁদ। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে রাজশাহীর পদ্মায় দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নৌকাডুবি, গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া কিংবা নদীর প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তে পড়ে এসব প্রাণহানি ঘটলেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে স্থায়ী ও কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

পদ্মায় চলাচলকারী অনেক নৌযানে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট নেই। কোথাও আবার নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করা হচ্ছে। ছোট নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের মধ্যে চলাচলের পাশাপাশি মাঝি ও যাত্রীদের অসচেতনতা এবং বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকি নেওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

দুর্ঘটনা ঘটলেই শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। কখনো উদ্ধার হয় মরদেহ, আবার কখনো দীর্ঘ অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান মেলে না। ফলে দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতার চেয়ে দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকি কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পাঁচ শিশুর মৃত্যু, আবারও প্রশ্ন

সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মায় প্রাণহানির ভয়াবহ উদাহরণ তৈরি হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। গত ২৮ আগস্ট সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের চর-চাকলা গ্রামে পদ্মায় ডুবে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলো: চর-চাকলা গ্রামের নিজাউদ্দিনের দুই মেয়ে সুমাইয়া (১১) ও সুরাইয়া (৯), একই এলাকার মাসুদ আলীর দুই মেয়ে সুমাইয়া (১১) ও আরিবা (৮) এবং শরিফুল ইসলামের মেয়ে শরীফা (১১)।

এ ঘটনায় স্বজনদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা চালানো হলেও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

পাঁচ বছরে ৬১ নৌকাডুবি

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও নাটোরে পদ্মা নদীতে ৬১টি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৭০ থেকে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে রাজশাহীতে ৪০টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৩টি, পাবনায় পাঁচটি এবং নাটোরে তিনটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এসব দুর্ঘটনার বড় কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ছোট নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী বহন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব, লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার না করা এবং বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে নদীতে চলাচল।

বর্ষা মৌসুমে পদ্মায় পানির উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের তীব্রতাও বাড়ে। এ সময় ছোট ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সরকারি হিসাবের বাইরেও প্রাণহানি

স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে শুধু রাজশাহীর পদ্মায় খেয়া পারাপার, নৌকাডুবি ও গোসল করতে গিয়ে অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গোসল করতে নেমে মারা গেছেন ১৪ জন। নৌকা ভ্রমণ বা খেয়া পারাপারের সময় নৌকা ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন নয়জন।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে পদ্মা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় সাতটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনেকের মরদেহ উদ্ধার না হওয়ায় প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে আরও বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বলছেন, নদীতে নিখোঁজ হওয়ার পর অনেকের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। ফলে এসব মৃত্যুর তথ্য সরকারি হিসাবে যুক্ত হয় না। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে রাজশাহীর পদ্মায় প্রাণহানি দুই শতাধিক ছাড়িয়েছে।

বাবার পর ছেলের মরদেহ মিলল দুই দিন পর

রাজশাহীর পদ্মার ভয়াবহতার সাম্প্রতিক আরেকটি উদাহরণ ৩০ জুলাইয়ের নৌকাডুবি। দুর্ঘটনার দুই দিন পর বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রাজশাহী অঞ্চলের নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, কুষ্টিয়া থেকে বাবার এবং রাজশাহীর পবা উপজেলার পদ্মা নদী থেকে ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন কাটাখালী থানার শ্যামপুর শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা ও নৌকার মাঝি কাওসার আলী (৬০) এবং তার তিন বছর বয়সী ছেলে জিয়ারুল হক।

নদীর প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তে নিখোঁজ হওয়ার পর দুই দিন ধরে তাদের সন্ধান চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে অপেক্ষার অবসান হলেও পরিবারটির শোক আরও ভারী হয়ে ওঠে।

গোসলেও বাড়ছে প্রাণহানি

শুধু নৌকাডুবি নয়, পদ্মায় গোসল করতে নেমেও প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে। গত দুই বছরে রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় গোসল করতে নেমে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকারী ডুবুরিরা এলাকাটিকে পদ্মার অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

এর আগে ২০২০ সালে একই শ্রীরামপুর এলাকায় নৌকা ডুবে নববধূসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছিল।

স্থানীয়রা জানান, শ্রীরামপুরসহ নগরীর বিভিন্ন পদ্মাপাড়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বেড়াতে আসেন। অনেকে নদীতে নামেন, আবার কেউ ছোট নৌকায় ভ্রমণ করেন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় আনন্দের এই আয়োজন কখনো কখনো পরিণত হচ্ছে প্রাণঘাতী ঘটনায়।

বিনোদনের কেন্দ্র, নিরাপত্তা কোথায়?

রাজশাহীর জন্য পদ্মা শুধু একটি নদী নয়, নগরবাসীর বিনোদনেরও অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। জেলার প্রায় ১০০ কিলোমিটার পদ্মাপাড়জুড়ে বিভিন্ন স্থানে মানুষের অবসর কাটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। নগরীতে পর্যটনকেন্দ্রের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় পদ্মাপাড়ই হয়ে উঠেছে অনেকের বিনোদনের প্রধান ঠিকানা।

স্থানীয়দের দাবি, পদ্মায় প্রায় ৫০০টি ভ্রমণ নৌকা চলাচল করে। প্রতিদিন পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে বিভিন্ন বয়সী মানুষ নদীর পাড়ে আসেন। নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে ওঠেন ভ্রমণ নৌকায়। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না থাকায় আনন্দের এই ভ্রমণ কখনো কখনো পরিণত হয় শোকের ঘটনায়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান চালানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি নৌকায় নির্ধারিত সংখ্যার বেশি যাত্রী বহন বন্ধ, লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ ও ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, ঝুঁকিপূর্ণ ছোট নৌকা নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষিত মাঝি নিয়োগ এবং নিয়মিত নৌ-পুলিশের নজরদারি প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নির্ধারিত স্থান ছাড়া নদীতে গোসল বন্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

অতিরিক্ত যাত্রীই বড় ঝুঁকি

স্থানীয় বাসিন্দা সুমনের অভিযোগ, বড় নৌকার তুলনায় ছোট নৌকাগুলোই বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ অতিরিক্ত যাত্রী বহন। অনেক নৌকায় লাইফ জ্যাকেট থাকে না। আবার কোথাও থাকলেও যাত্রীরা তা ব্যবহার করতে চান না।

তার মতে, বর্ষায় পদ্মায় পানি ও ঘূর্ণাবর্ত বাড়লে ছোট নৌকা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বড় ও নিরাপদ নৌযানের ব্যবস্থা করা হলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

টি-বাঁধে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা ওবায়দুল্লা রকি বলেন, অনেক নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হচ্ছে। অতিরিক্ত বোঝাই অবস্থায় ছোট নৌকা চলাচল করায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নৌকায় কতজন যাত্রী বহন করা যাবে তা নির্ধারণ এবং লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান তিনি।

বন্ধুদের নিয়ে পদ্মায় ঘুরতে আসা আব্দুর রহিম বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে যাত্রী ও মাঝি-দুই পক্ষকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। পাশাপাশি অচল বা ঝুঁকিপূর্ণ নৌকা এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনকারী নৌযানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো প্রয়োজন।

জেলেদেরও প্রয়োজন নিরাপত্তা সরঞ্জাম

পদ্মায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন শফিকুল ইসলাম। তার কাছে নদী যেমন জীবিকার উৎস, তেমনি প্রতিদিনের ঝুঁকিরও কারণ।

তিনি বলেন, নদীর মাঝখানে মাছ ধরার সময় হঠাৎ ঝড়, ঢেউ বা প্রবল বাতাস শুরু হলে ছোট নৌকা সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় জেলেদের জন্য সরকারি উদ্যোগে লাইফ জ্যাকেটসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।

অসচেতনতাকেই দায়ী করছে ফায়ার সার্ভিস

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাজশাহীসহ চার জেলায় গত পাঁচ বছরে ৬১টি নৌ-দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় প্রায় ৭০ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে রাজশাহীতেই প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি।

তার মতে, এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অসাবধানতা ও অসচেতনতা। অনেক নৌকায় লাইফ জ্যাকেট থাকলেও যাত্রীরা তা ব্যবহার করেন না। আবার ছোট নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী ওঠানো হয়। গোসল করতে নেমেও অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন।

এক-দুই দিনের অভিযান যথেষ্ট নয়

রাজশাহী অঞ্চলের নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, পদ্মার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। মাঝি ও নৌ-ভ্রমণকারীদের সচেতন করার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে নৌকাডুবিতে বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিষয়টি সামনে এসেছে। পরে সংশ্লিষ্ট নৌকাসহ অতিরিক্ত যাত্রী বহনকারী নৌকার বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়েছে। যেসব নৌকায় লাইফ জ্যাকেট নেই, সেগুলোর বিরুদ্ধেও জরিমানার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে তিনি স্বীকার করেন, এক-দুই দিন অভিযান চালিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। ধারাবাহিক অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রাখলেই নদীপথে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমানো সম্ভব।

তদন্ত কমিটি হয়, বদলায় না বাস্তবতা

পদ্মায় বড় দুর্ঘটনা ঘটলেই স্থানীয় প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে। গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি, নেওয়া হয় বিভিন্ন সুপারিশ। কিন্তু দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই অনেক ক্ষেত্রে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি ও দৃশ্যমান উদ্যোগ খুব একটা দেখা যায় না। ফলে একই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে এবং নতুন করে তৈরি হচ্ছে স্বজন হারানোর বেদনা।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, নৌ-দুর্ঘটনা রোধে মাঝি ও বিনোদনপ্রেমীদের সচেতন করতে পদ্মাপাড়জুড়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ এবং নৌযানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নেপথ্যে অব্যবস্থাপনাই বড় প্রশ্ন

পদ্মার প্রবল স্রোত, ঘূর্ণাবর্ত কিংবা বৈরী আবহাওয়া মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রী বহন, লাইফ জ্যাকেটের ঘাটতি, প্রশিক্ষিত মাঝির অভাব, ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান এবং পর্যাপ্ত নজরদারির দুর্বলতা—এসব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণযোগ্য।

তাই রাজশাহীর পদ্মায় এক দশকে দুই শতাধিক প্রাণহানির পেছনে শুধু নদীর স্বাভাবিক ভয়াবহতাকে দায়ী করলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ, নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাঝিদের প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত নজরদারি জোরদার করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

নইলে পদ্মার সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে আর কত পরিবারকে স্বজন হারানোর বেদনা বয়ে বেড়াতে হবে-সেই প্রশ্নের উত্তরই থেকে যাবে অমীমাংসিত।