ওমান উপসাগরে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার ডুবে গেল

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ব্যাপক ক্ষতির পর ডুবল এম/টি কায়লো; পাল্টা হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের বিরুদ্ধে মার্কিন জাহাজে হামলার দাবি

টুইট ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ওমান উপসাগরে ডুবে গেছে ইরানের বিশালাকৃতির তেলবাহী ট্যাংকার এম/টি কায়লো। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কায়লোসহ তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

রোববার সকালে ট্যাংকারটি ডুবে যাওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সামরিক কমান্ড। ভিডিওতে দেখা যায়, হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ট্যাংকারটি।

মার্কিন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন সেনাদের অভিযানের পর এম/টি কায়লো ওমান উপসাগরে ডুবে গেছে। তাদের দাবি, ইরানের বিপ্লবী গার্ডের হামলার জবাবেই ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ইরানের বিপ্লবী গার্ড তাদের যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানোর পর শনিবার ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা করা হয়। তবে হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যুদ্ধজাহাজে হামলার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে অনুমতিবিহীন পথে চলাচলকারী আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কথা জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে টানা ৪০ দিন যুদ্ধ চলে। ওই সময় ইরানের নৌবাহিনীর বেশ কয়েকটি জাহাজ ধ্বংস ও ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এবার এম/টি কায়লো ডুবে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানের পাল্টা হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।