একঝলক দেখতেই প্রতিদিন পথের পাশে অপেক্ষা

কয়েক সেকেন্ডের সাক্ষাৎ, হাত নাড়ায় অভিবাদন-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের গড়ে উঠেছে নীরব এক সখ্য

টুইট ডেস্ক: রোদ-বৃষ্টি কিংবা গভীর রাত-সময়টা যাই হোক, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের পাশে প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকেন কয়েকজন মানুষ। অপেক্ষা তাদের একজনকে দেখার। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গাড়িবহর কখন ওই পথ দিয়ে যাবে, তা সবসময় নিশ্চিতভাবে জানা না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের সময়ের হিসাব মিলিয়ে দিনের পর দিন সেখানে অপেক্ষা করেন তারা।

কেউ অফিসে যাওয়ার পথে দাঁড়ান, কেউ জীবিকার ব্যস্ততার ফাঁকে। কেউ রিকশা থামিয়ে অপেক্ষা করেন, কেউ দোকান বা ফুটপাতের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। প্রত্যাশা একটাই—চলন্ত গাড়ির ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে একবার দেখা।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে করতে এসব মানুষ এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। গাড়িবহর তাদের কাছে পৌঁছালে অনেক সময় গতি কিছুটা কমে আসে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান, আর গাড়ির ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রীও হাত তুলে হাসিমুখে তার জবাব দেন।

রমনা থানার পাশে একটি যমুনা ব্যাংকের এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন পাবনার এক বৃদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় হাতে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন তিনি। গাড়িবহর চলে যাওয়ার পর নাশতা করে কাজে যোগ দিতেন।

এখন সেই এটিএম বুথ বন্ধ হয়ে গেছে, চাকরিও নেই ওই বৃদ্ধের। কিন্তু তাতেও বদলায়নি তার অভ্যাস। প্রতিদিন নিরাপত্তাকর্মীর পোশাক পরে হাতে ধানের শীষ নিয়ে তিনি পুরোনো জায়গায় এসে দাঁড়ান। কয়েক সেকেন্ডের জন্য প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সামনে দিয়ে যায়। একঝলক দেখার পর আবার ফিরে যান নিজের গন্তব্যে।

বনানীর দুবাই মার্কেটের কাছেও নিয়মিত অপেক্ষা করেন দুজন রিকশাচালক। জীবিকার ব্যস্ততার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি যাওয়ার সময়টুকু তারা আলাদা করে রাখেন। গাড়ি কাছে এলেই তাদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দ।

বনানী কাঁচাবাজারের আশপাশে ফুল ও ফল বিক্রেতা এবং ফুটপাতের কয়েকজন হকারও একইভাবে অপেক্ষা করেন। কাজের ব্যস্ততা থামিয়ে তারা দাঁড়িয়ে পড়েন সড়কের পাশে।

এমন আরও একজনের দেখা মেলে কামাল আতাতুর্ক সড়কে। রাতে প্রধানমন্ত্রী বাড়ি ফেরার পথে ওই ব্যক্তি নিয়মিত অপেক্ষা করেন। কখনও অপেক্ষা গড়ায় গভীর রাত পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি সেখানে পৌঁছালে গতি কিছুটা কমে এবং গাড়ির ভেতরের আলো জ্বালিয়ে হাত নেড়ে তার অভিবাদনের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

গুলশান-২-এর প্রধান সড়ক থেকে গলির ভেতরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও হোটেলের কর্মীদের মধ্যেও এমন অপেক্ষারত মানুষ রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী রাতে ওই পথ দিয়ে ফেরার সময় তাদের কাছে পৌঁছালে গাড়ির ভেতরের বাতি জ্বালিয়ে দেন, যাতে পথের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো তাকে স্পষ্ট দেখতে পারেন।

কথা হয় না, গাড়ি থামে না। নেই আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ বা কুশল বিনিময়ের সুযোগ। থাকে শুধু কয়েক মুহূর্তের চোখের দেখা, হাত নাড়ানো আর অভিবাদনের জবাব। দিনের পর দিন এমন ক্ষণিকের সাক্ষাৎই পথের পাশে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষ ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে তৈরি করেছে এক ধরনের পরিচিতি ও আবেগের সম্পর্ক।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের ভাষ্য, শুরুতে এই অপেক্ষা ছিল একতরফা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পরিচিত মুখগুলো প্রধানমন্ত্রীরও নজরে এসেছে। এখন পরিচিত জায়গাগুলো দিয়ে যাওয়ার সময় তিনিও পথের পাশে থাকা সেই মানুষগুলোকে খুঁজে নেন।

কয়েক হাত দূরত্ব আর কয়েক সেকেন্ডের সাক্ষাৎ-কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই এভাবেই তৈরি হয়েছে অপেক্ষা ও পরিচয়ের এক নীরব বন্ধন।