শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগে সাসপেন্ড, ফের টিকিট চেকে টিটিই সুমন

সাসপেন্ডের ৪৪ দিন পর রেলস্টেশনে টিটিই সুমন, ইউনিফর্ম ছাড়াই টিকিট চেক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্তের পরও দায়িত্ব পালনের অভিযোগ।

রাজশাহী প্রতি‌নি‌ধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনের ভেতর নির্যাতনের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পশ্চিমাঞ্চল রেলের টিটিই সুমন আলীকে এক মাস ১৪ দিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আবারও রাজশাহী রেলস্টেশনে টিকিট চেক করতে দেখা গেছে। তবে এ সময় তার পরনে ছিল না রেলের নির্ধারিত ইউনিফর্ম।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজশাহী রেলস্টেশনে উপপ্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (ডেপুটি সিসিএম) আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে টিকিট চেক করতে দেখা যায় সুমন আলীকে। তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশের মেয়াদ শেষ হয়েছে কি না, কিংবা তাকে পুনরায় দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে কি না—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পাওয়ার পর সুমন আলী দ্রুত স্টেশন এলাকা থেকে সরে যান। ফলে তার দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সরাসরি বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি সিসিএম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সুমন আলী পাকশী অফিসের কর্মচারী। তাদের অফিস এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবে।”

যে ঘটনায় সাসপেন্ড হয়েছিলেন সুমন

গত ২১ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনের ভেতর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে পশ্চিমাঞ্চল রেলের টিটিই সুমন আলীর বিরুদ্ধে। অভিযোগটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সামনে রেলপথ অবরোধ করেন। এতে রাজশাহী থেকে বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করতে হয়। দীর্ঘ সময় রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। রেলপথ অবরোধের কারণে যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দিতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

প্রায় ১০ ঘণ্টা অচল ছিল রেল যোগাযোগ

ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসন ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিকেল পাঁচটার দিকে শিক্ষার্থীরা রেলপথ অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

এর আগে প্রায় ১০ ঘণ্টা রাজশাহীর সঙ্গে বিভিন্ন রুটের রেল যোগাযোগ কার্যত অচল ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক চাপের মধ্যে পড়তে হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত টিটিই সুমন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

সাসপেন্ড অবস্থায় কীভাবে টিকিট চেক

সুমন আলীকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রেলস্টেশনে টিকিট চেক করতে দেখা যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সাময়িক বরখাস্তের পর তার দায়িত্ব পালনের বৈধতা, বরখাস্তের মেয়াদ শেষ হয়েছে কি না এবং পুনরায় দায়িত্বে ফেরার ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি হয়েছে কি না—এসব বিষয় নিয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে ইউনিফর্ম ছাড়া একজন রেলকর্মী কীভাবে যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা করছিলেন, সেটিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তবে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত সুমন আলীর পুনর্বহাল বা দায়িত্ব পালনের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগের পর যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০ ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়েছিল, সেই ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মীর পুনরায় স্টেশনে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।