রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রিমুখী সংঘর্ষ, মা-ছেলে গুলিবিদ্ধ

শতাধিক রাউন্ড গুলির শব্দে আতঙ্ক, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছেলে

টুইট ডেস্ক: কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র তিনটি গোষ্ঠীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় মা ও ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় শতাধিক রাউন্ড গুলির শব্দে ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় উখিয়ার ৮ নম্বর ক্যাম্পের ইস্ট বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন তাহেরা বেগম ও তার ছেলে মোহাম্মদ ইউসুফ। প্রথমে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দুজনকেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শান্তনু ঘোষ জানান, মোহাম্মদ ইউসুফের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার মাথার বাঁ পাশের সামনের দিক দিয়ে গুলি ঢুকে পেছন দিয়ে বের হয়ে গেছে। অন্যদিকে, তাহেরা বেগমের পেটে গুলি লেগেছে। গুলির কোনো বহির্গমন পথ পাওয়া যায়নি। ফলে গুলিটি তার শরীরের ভেতরে রয়েছে।

তাহেরা বেগমের স্বামী নুর আলম বলেন, ‘শুনেছি আরএসও গুলি করেছে। কী কারণে করেছে, কিছুই জানি না। আমি কখনো কারও ক্ষতি করিনি।’

ক্যাম্পের বাসিন্দাদের ভাষ্য, আরাকান আর্মি, আরসা ও আরএসওর সদস্যদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছে। সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া গোলাগুলিতে একের পর এক গুলির শব্দ শোনা যায়। এতে ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ক্যাম্পের কমিউনিটি নেতা জুবায়ের আহমেদ জানান, সংঘর্ষের সময় আনুমানিক ১২০ থেকে ২০০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়ে থাকতে পারে। সন্ধ্যায় শুরু হওয়া গোলাগুলি রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত থেমে থেমে চলে।

ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।