মেট্রোরেলের নতুন প্রকল্পে হাত দিচ্ছে সরকার, ব্যয় ৬১ হাজার কোটি টাকা

গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জ, থাকছে ২৪ স্টেশন ও পাতাল-উড়াল পথ
টুইট ডেস্ক: রাজধানীর গণপরিবহনব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করতে ‘এমআরটি লাইন-২’ নামে নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সরকার। গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত প্রস্তাবিত এ মেট্রোরেলপথের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। এতে ২৪টি স্টেশন থাকবে এবং পাতাল ও উড়াল-দুই ধরনের পথের সমন্বয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। এর বড় অংশ বৈদেশিক ঋণ হিসেবে বিশ্বব্যাংক থেকে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক থেকেও ঋণ সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে প্রকল্পের কাজ শুরু করে ২০৩০ সালের মধ্যে এ পথে মেট্রোরেল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা গণপরিবহন কোম্পানি লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
পুরান ঢাকাকে যুক্ত করবে নতুন পথ
প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২ গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জের তারাবো পর্যন্ত চলাচল করবে। পথে ঢাকা উদ্যান, বছিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বাস টার্মিনাল, জিগাতলা, বিজ্ঞান গবেষণাগার, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাপ্তানবাজার ও ডেমরাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্টেশন রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিস্তান থেকে নয়াবাজার হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত একটি শাখা পথ নির্মাণের প্রস্তাবও রয়েছে। এর ফলে ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াতের সুযোগ বাড়বে।
বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির ঋণ সহায়তার আলোচনা
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির জন্য বিশ্বব্যাংক ও এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের সঙ্গে ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে উপস্থাপনাও করেছে। এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের সঙ্গেও ঋণ সহায়তার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে প্রকল্পের প্রাক-প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কমিশনের মতামত পাওয়ার পর বৈদেশিক অর্থায়নের জন্য প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে পাঠানো হবে। এরপর সমীক্ষাসহ প্রকল্পের মূল কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান কবির আহমেদ জানান, মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবটি পাওয়া গেছে এবং তা যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বৈদেশিক অর্থায়নের নিশ্চয়তা পেতে এটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবহনপথ। কারণ, এটি ঘনবসতিপূর্ণ ও দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা পুরান ঢাকাকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনবে।
নীতিগতভাবে ঋণে সম্মতি বিশ্বব্যাংকের
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের বিশ্বব্যাংক শাখার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পে ঋণ সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের নীতিগত সম্মতি রয়েছে। আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এ বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছিল। এমনকি প্রাথমিক সমীক্ষার জন্য ঋণ দেওয়ার আগ্রহও দেখিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। তবে তখন প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হয়নি।
বর্তমান সরকার মেট্রোরেলের চলমান ও নতুন প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতেও মেট্রোরেল খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।
ভবিষ্যতে এমআরটি লাইন-২ নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
অন্যান্য মেট্রোরেলের সঙ্গে সংযোগ
যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে নতুন এই মেট্রোরেলপথকে বিদ্যমান ও প্রস্তাবিত অন্যান্য মেট্রোরেলের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। গাবতলী অংশে এমআরটি লাইন-৫-এর উত্তর ও দক্ষিণ অংশের সঙ্গে সংযোগ থাকবে। কমলাপুরে এমআরটি লাইন-১, ৪ ও ৬ এবং সাইনবোর্ড এলাকায় এমআরটি লাইন-৪-এর সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
ফলে এমআরটি লাইন-২ চালু হলে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে মেট্রোরেলভিত্তিক যাতায়াত আরও বিস্তৃত ও সহজ হওয়ার পাশাপাশি পুরান ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে রাজধানীর দ্রুত যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।






