তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায় বাংলাদেশ

জেদ্দায় ওআইসি বৈঠকের সাইডলাইনে হুমায়ুন-মুসা বৈঠক; অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব।

টুইট ডেস্ক: ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ২৩তম জরুরি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকের সাইডলাইনে তুরস্কের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।

অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় জোর

বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প ও প্রযুক্তি সহযোগিতার নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে এ খাতে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বেড়েছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি বিনিময় ও যৌথ সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা

দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি বৈঠকে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রস্তুতি ব্যক্ত করেন তারা।
বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সংকট ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে বাংলাদেশ ও তুরস্কের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। ওআইসির মতো বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে দুই দেশ এসব বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর তুরস্ক সফরের বার্তা

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তুরস্কের উপমন্ত্রীকে জানান, আসন্ন কপ সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়লে অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মুক্ত হতে পারে।

কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক বর্তমানে শুধু কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের যোগাযোগ রয়েছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব—দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্প সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা উৎপাদনে সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সামনে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রত্যাশা

জেদ্দার বৈঠকটি দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও জোরদার করার রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। বিদ্যমান সহযোগিতাকে নতুন খাতে সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে দুই পক্ষের আগ্রহ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তুরস্ক সফর হলে সেটি এই সম্পর্ককে আরও উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও কৌশলগত কাঠামোয় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। ফলে জেদ্দার বৈঠককে বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায়ের প্রস্তুতি হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে ভিত্তি করে বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক এখন আরও বিস্তৃত অংশীদারিত্বের দিকে এগোচ্ছে। জেদ্দায় দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য তুরস্ক সফরের বার্তা সেই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।