পাহাড়ে শান্তি ও নিরাপত্তার দাবিতে পিসিএনপির মানববন্ধন

চাঁদাবাজি, অপহরণ, গুম ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে পাহাড়ে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি বক্তাদের।  ‘সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন’

নিজস্ব প্রতিবেদক: পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর চাঁদাবাজি, অপহরণ, গুম ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বান্দরবানে মানববন্ধন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বান্দরবান প্রেস ক্লাব চত্বরে পিসিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, অপহরণ, গুম ও হত্যাকাণ্ডের মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এতে পাহাড়ের কৃষক, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন।

তারা বলেন, পাহাড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপহরণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত সব নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, জানমালের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

বক্তারা অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অপহরণ, গুম ও হত্যাকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে পাহাড়ে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান জেলা নাগরিক পরিষদের সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন বান্দরবান জেলা নাগরিক পরিষদের সহসভাপতি নুরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. নাছির উদ্দীন, কেন্দ্রীয় নাগরিক পরিষদের দপ্তর সম্পাদক মো. শাহজালাল, বান্দরবান পৌরসভা নাগরিক পরিষদের সভাপতি সামচুল হক সামু, কেন্দ্রীয় যুব পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইবরাহীম এবং বান্দরবান জেলা ছাত্র পরিষদের সভাপতি মো. ইবরাহীম।

বক্তারা আরও বলেন, পাহাড়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বেরও অংশ। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধন থেকে ‘চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস বন্ধ চাই’ এবং ‘সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।